ঢাজা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চৌদ্দগ্রামে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে চাঁদার দাবিতে দিনভর নির্যাতন, আটক-২

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মো. এয়াছিন (৪০) নামে এক ফল ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে আটকে রেখে দিনভর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে একদল বখাটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করে বলে জানা গেছে। নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ী ফেনী সদর এলাকার অলুকিয়া গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে মো. এয়াছিন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফল ব্যবসা করে আসছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকার মাত্র ২ শত গজের মধ্যে একটি পরিত্যাক্ত স্কুল ভবনে। ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের তথ্যটি বৃহস্পতিবার বিকালে নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু মাহমুদ কাউছার হোসেন। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগি ব্যবসায়ী এয়াছিন বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে জিল্লুর রহমান (৩০) ও পূর্ব চাঁন্দিশকরা গ্রামের মৃত জাফর মিয়ার ছেলে সোহাগ প্রকাশ মুন্না (২৭)।

থানায় দায়েরকৃত মামলায় এয়াছিন উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফুটপাতে ফল ব্যবসা করে আসছেন। গ্রেফতারকৃত জিল্লুর রহমান ও সোহাগ প্রকাশ মুন্নাসহ তাদের অপর সহযোগীরা চৌদ্দগ্রাম বাজারে বিভিন্ন পরিবহন থেকে জিবির নামে চাঁদা আদায় করতো। এই সুবাদে তাদের সাথে চেনাজানা ছিলো। গত বুধবার দুপুরে জিল্লুর রহমান আমার মুটোফোনে আমাকে বলে তাকে দুইশত টাকা ধার দিতে। আমি টাকা ধার দিতে রাজী হলে সে কৌশলে আমাকে ফোনে চৌদ্দগ্রাম থানা থেকে মাত্র ২শত গজ দূরে পারাবত স্কুলের সামনে গিয়ে টাকা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করে। আমি সরল বিশ^াসে সেখানে গেলে জিল্লুর ও মুন্না তাদের অপর সহযোগীরা সহ ৫ জন মিলে আমাকে জোরপূর্বক স্কুলের একটি পরিত্যাক্ত রুমে নিয়ে আটক করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তারা আমার উপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। দিনভর তারা আমাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, তাদের পিটুনিতে আমি একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা আমাকে রেখে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আমার জ্ঞান ফিরলে দেখি তারা পাশের রুমে অবস্থান করছে। আমি সুযোগ বুঝে বুধবার রাতে তাদের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করে দৌড় দিলে তারা আবারও আমাকে স্কুল গেইটের সামনে ঝাপটে ধরে মারধর শুরু করে। এ সময়ে আমার আতœচিৎকারে স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে স্থানীয় জনতার সহয়তায় আমাকে উদ্ধার করে এবং জিল্লুর ও মুন্নাকে আটক করে। এর আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাহিম (২৬), মনির (২৫) ও টুটুল (৩০) নামে তাদের অপর সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহয়তায় পুলিশ আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু মাহমুদ কাউছার হোসেন বলেন, এয়াছিন নামে চৌদ্দগ্রাম বাজারের এক ফল ব্যবসায়ীকে টাকা ধারের বায়না ধরে ৫ ব্যক্তি আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ওই ব্যবসায়ী দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তারা তাকে দিনভর নির্যাতন করছে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় অপহরণকৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পালিয়ে যাওয়া অপর ৩ ব্যক্তিকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পর্যায়ে বিনামূল্যে LSD টিকা প্রদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

চৌদ্দগ্রামে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে চাঁদার দাবিতে দিনভর নির্যাতন, আটক-২

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৪:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মো. এয়াছিন (৪০) নামে এক ফল ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে আটকে রেখে দিনভর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে একদল বখাটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করে বলে জানা গেছে। নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ী ফেনী সদর এলাকার অলুকিয়া গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে মো. এয়াছিন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফল ব্যবসা করে আসছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকার মাত্র ২ শত গজের মধ্যে একটি পরিত্যাক্ত স্কুল ভবনে। ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের তথ্যটি বৃহস্পতিবার বিকালে নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু মাহমুদ কাউছার হোসেন। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগি ব্যবসায়ী এয়াছিন বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে জিল্লুর রহমান (৩০) ও পূর্ব চাঁন্দিশকরা গ্রামের মৃত জাফর মিয়ার ছেলে সোহাগ প্রকাশ মুন্না (২৭)।

থানায় দায়েরকৃত মামলায় এয়াছিন উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফুটপাতে ফল ব্যবসা করে আসছেন। গ্রেফতারকৃত জিল্লুর রহমান ও সোহাগ প্রকাশ মুন্নাসহ তাদের অপর সহযোগীরা চৌদ্দগ্রাম বাজারে বিভিন্ন পরিবহন থেকে জিবির নামে চাঁদা আদায় করতো। এই সুবাদে তাদের সাথে চেনাজানা ছিলো। গত বুধবার দুপুরে জিল্লুর রহমান আমার মুটোফোনে আমাকে বলে তাকে দুইশত টাকা ধার দিতে। আমি টাকা ধার দিতে রাজী হলে সে কৌশলে আমাকে ফোনে চৌদ্দগ্রাম থানা থেকে মাত্র ২শত গজ দূরে পারাবত স্কুলের সামনে গিয়ে টাকা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করে। আমি সরল বিশ^াসে সেখানে গেলে জিল্লুর ও মুন্না তাদের অপর সহযোগীরা সহ ৫ জন মিলে আমাকে জোরপূর্বক স্কুলের একটি পরিত্যাক্ত রুমে নিয়ে আটক করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তারা আমার উপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। দিনভর তারা আমাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, তাদের পিটুনিতে আমি একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা আমাকে রেখে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আমার জ্ঞান ফিরলে দেখি তারা পাশের রুমে অবস্থান করছে। আমি সুযোগ বুঝে বুধবার রাতে তাদের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করে দৌড় দিলে তারা আবারও আমাকে স্কুল গেইটের সামনে ঝাপটে ধরে মারধর শুরু করে। এ সময়ে আমার আতœচিৎকারে স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে স্থানীয় জনতার সহয়তায় আমাকে উদ্ধার করে এবং জিল্লুর ও মুন্নাকে আটক করে। এর আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাহিম (২৬), মনির (২৫) ও টুটুল (৩০) নামে তাদের অপর সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহয়তায় পুলিশ আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু মাহমুদ কাউছার হোসেন বলেন, এয়াছিন নামে চৌদ্দগ্রাম বাজারের এক ফল ব্যবসায়ীকে টাকা ধারের বায়না ধরে ৫ ব্যক্তি আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ওই ব্যবসায়ী দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তারা তাকে দিনভর নির্যাতন করছে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় অপহরণকৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পালিয়ে যাওয়া অপর ৩ ব্যক্তিকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।