এক পর্যায়ে তিনি পাহাড়তলী থানাধীন এক আইনজীবী মোঃ আফতাব উদ্দিন (আলতাফ) এর চারতলা ভবনের একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে অবস্থান করেন। সেই সূত্রে ২০২৩-২০২৪ সালের দিকে উক্ত পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে ওই পরিবারের ছেলে-মেয়েদের গৃহশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ফয়সালের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থানার মাসুয়া ইউনিয়নে। পড়াশোনা ও কর্মসূত্রে তিনি ২০২৩ সালের শুরুতে চট্টগ্রামে আসেন। পরে আইনজীবীর পরিবারের স্ত্রী বিবি ফাতেমার সঙ্গে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ফয়সাল ও তার মাকে উক্ত বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, পরবর্তীতে আইনজীবী আফতাব উদ্দিন তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন এবং কয়েক মাস পর ইসলামী শরীয়া মোতাবেক ফয়সাল মিয়া ও বিবি ফাতেমা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
এরপর থেকেই ফয়সালের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের এবং তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। বক্তব্যে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হওয়া সত্ত্বেও ফয়সালকে রাজনৈতিকভাবে জড়িয়ে বিভিন্ন থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে নাশকতা, জ্বালাও-পোড়াও ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
তবে এসব মামলায় উল্লেখিত ব্যক্তি তিনি নন বলে দাবি করা হয় এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রমাণ আদালতে দাখিল করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। এছাড়া, ফয়সালের মা আমেনা বেগমসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদেরও মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রভাব খাটিয়ে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে এসব হয়রানিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের উচ্চপদস্থ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আইনজীবী সমিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফয়সাল মিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে একটি নিরীহ ছাত্র ও তার পরিবারকে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে রক্ষা করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করা হয়।