হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,
“কিয়ামত কায়েম হবে না, যতক্ষণ না ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক ভূমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে, হারজ বৃদ্ধি পাবে।”
সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “হারজ অর্থ খুনখারাবি।”
— (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯৭৯)
ইসলামি বর্ণনাগুলোতে কিয়ামতের আগে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক আচরণ, সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নামাজে অবহেলা, সুদের বিস্তার, মিথ্যা ও দুর্নীতির প্রসার, জুলুম-অত্যাচার বৃদ্ধি, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া, অবিচার, মদ্যপান, খুনখারাবি এবং আমানতের খেয়ানত।
হাদিসে আরও উল্লেখ রয়েছে, ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যে দুনিয়ামুখী প্রবণতা বাড়বে, সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। সমাজে অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসবে এবং সৎ ও ভদ্রলোকেরা লাঞ্ছিত হবে।
কিছু বর্ণনায় উঁচু ভবন নির্মাণে প্রতিযোগিতা, তালাক বৃদ্ধি, আকস্মিক মৃত্যু, নারীদের অশালীনতা, বাদ্যযন্ত্র ও বিনোদনে অতিরিক্ত আসক্তি এবং জাকাতকে বোঝা মনে করার বিষয়ও কিয়ামতের আলামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামি গবেষকরা বলেন, কিয়ামতের আলামত সম্পর্কিত বর্ণনাগুলোর উদ্দেশ্য মানুষের মধ্যে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহভীতি সৃষ্টি করা। এসব আলামত দেখে হতাশ না হয়ে বরং বেশি বেশি ইবাদত, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানবিক মূল্যবোধ চর্চার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
তারা আরও বলেন, সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্র— সবারই দায়িত্ব রয়েছে। ইসলাম মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়।
১. নামাজের প্রতি মানুষের গুরুত্ব থাকবে না। ২. আমানতের খেয়ানত করবে। ৩. সুদের লেনদের করবে।। ৪. মি’থ্যা কথা বলাকে হালাল মনে করবে। ৫. সামান্য বিষয়ে অন্যের প্রাণ সংহার করবে। ৬. উচু উচু ভবন নির্মাণ করবে। ৭. আত্মিয়তার সর্ম্পক ছিন্ন করবে। ৮. ইনসাফ উঠে যাবে। ৯. জু’লু’ম অ’ত্যা’চার ব্যাপক আকার ধারণ করবে। ১০. তালাক বেড়ে যাবে। ১১. আকস্মিক মৃ’ত্যু বেড়ে যাবে। ১২. সত্যকে মি’থ্যা এবং মি’থ্যা’কে সত্য মনে করা হবে। ১৩. দু’র্নী’তি পরায়ন মানুষদের সেবক মনে করা হবে। ১৪. অপবাদ আরোপের পরিমাণ বেড়ে যাবে। ১৫. লোকেরা সন্তান নেয়া বন্ধ করে দিবে। ১৬. নীচ লোকেরা সম্পদশালী হবে। ১৭. ভদ্রলোকেরা নিষ্পষিত,লা’ঞ্চিত হবে। ১৮. আমানতের খেয়ানত হবে। ১৯. শাসক শ্রেণির লোকেরা অহরহমি’থ্যা কথা বলবে। ২০. নেতৃবর্গ জা’লেম হবে। ২১. আলেম ও কারিগণ বদকার হবে। ২২. স্বর্ণের দামকমে যাবে এবং রুপার দাম বেড়ে যাবে। ২৩. গু’না’হের পরিমাণ বেড়ে যাবে। ২৪. জান মালের নিরাপত্তা কমে যাবে। ২৫. শরিয়তের দন্ড বিধি অকার্যকর হবে। ২৬. ব্যাপকভাবে মদ্যপান ছড়িয়ে পড়বে। ২৭. কোরআন শরিফ সঞ্জিত করা হবে। ২৮. দাসি স্বীয় মুনিবকে ভর্ৎসনা দিবে। ২৯. নিচু শ্রেণির লোকেরা দেশের শাসক বনে যাবে। ৩০. নারী-পুরুষ কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করবে। ৩১. পুরুষরা মহিলার বেশ এবং মহিলারা পুরুষের বেশ ধারণ করবে। ৩২. গাইরুল্লাহর নামে শপথ করা হবে। ৩৩. মুসলমানরাও নির্দ্বিধায় মি’থ্যা সাক্ষ্য দিবে। ৩৪. সম্মানের রেওয়াজ উঠে যাবে। ৩৫. দুনিয়া লাভের আশায় দ্বীন ইলম শিক্ষা করা হবে। ৩৬. আ’খে’রা’তের কাজের দ্বারা দুনিয়া অর্জন করা হবে। ৩৭. জাতীয় ও রাষ্ট্রিয় সম্পদকে নিজের মনে করা হবে। ৩৮. আমানতের মালকে লুটের মাল মনে করা হবে। ৩৯.সমাজের নিচ ও নি’কৃ’ষ্ট লোককে নেতা বানানো হবে। ৪০.সন্তান পিতা-মাতার অবাধ্য হবে।। ৪১. বন্ধু বন্ধুর ক্ষ’তি করবে। ৪২. লোকেরা স্ত্রীর আনুগত্য করবে। ৪৩. বদকার লোকেরা মসজিদে শোরগোল করবে। ৪৪.গায়িকা মহিলাদের শাসন করা হবে। ৪৫. বাদ্য যন্ত্র ও এর উপকরণের যত্ন নেয়া হবে। ৪৬. মদের দোকান বেড়ে যাবে। ৪৭. জু’লু’ম করাকে গর্বের বিষয় মনে করা হবে ৪৮.আদালতে ন্যায় বিচার বিক্রি হবে। ৪৯. পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ৫০. কোরআনকে গানের সুরে তিলাওয়াত করা হবে। ৫১. হিং’স্র পশুর চামড়া ব্যবহার করা হবে। ৫২. উম্মতের শেষ যুগের লোকেরা প্রথম প্রথম যুগের লোকদের উপর অপবাদ আরোপ করবে। ৫৩. আল্লাহর পক্ষ থেকে লাল বর্ণের তুফান আসবে। ৫৪. ভূমিকম্প আসবে। ৫৫. অথবা আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হবে। ৫৬. জাকাতকে জরিমানা মনে করা হবে।।।।