ঢাকা, সংসদ প্রতিবেদক:
ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, বিস্তৃত নদ-নদী ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় পানি সম্পদ খাতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল-এর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বাড়ছে, যা মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ, বন্যা সুরক্ষা এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা হ্রাসে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের প্রথম পর্যায় অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা কমবে, সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাবে, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও জানান, দেশে নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বৃক্ষমেলা এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালিত হবে।
তিনি জানান, উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপদ জীবিকা নিশ্চিতকরণ এবং নারী, শিশু ও জেলেদের সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।
তিনি আরও জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি ওয়েস্ট-টু-এনার্জি কেন্দ্র, ২৬টি সমন্বিত ল্যান্ডফিল ও রিসোর্স রিকভারি ফ্যাসিলিটি স্থাপন এবং উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলে এক লাখ হেক্টর এলাকায় বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে ত্রাণনির্ভরতা থেকে ঝুঁকি হ্রাসভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করা হয়েছে। এর ফলে দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি সফল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।