ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে ঘিরে ডেমরা থানার ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ডেমরা থানা বিএনপির আহবায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম তিনি তার ছাত্র জীবন থেকে জাতীয়তাবাদ বিশ্বাসের রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি শিক্ষাজীবনে সিটি কলেজ ও নটরডেম কলেজের ছাত্র ছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের সুপরিচিত মুখ এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এই নেতা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বহু মামলা হামলা শিকার হন এবং একাধিক মামলা গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাসে ছিলেন এবং নানা রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। সেই সময়েও তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং বিভিন্ন সংকটে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফলে ডেমরা থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তার একটি শক্তিশালী ঐক্য ও গ্রহণযোগ্যতা গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও ড্রেন পরিষ্কার, মশক নিধন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ এবং অসহায় ও হতদরিদ্র দের সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধেও তাকে সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছে। এলাকা বাসীর মতে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ঐতিহ্যবাহী সারুলিয়া বাজার এর ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেখানে একটা দোকান মেরামত করার সময় ৫০ থেকে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হতো এবং বিভিন্ন সময়ে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের নামে উপর মহলকে ম্যানেজ করার অজুহাতে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করা হতো এবং দোকান মালিকদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য একটি নির্ধারিত টাকা দেওয়া হতো, ডেমরা থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটির উদ্যোগে ও সেলিম রেজা চৌধুরী সেলিম ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর জামান জামান এর নেতৃত্বে ৫০ টাকা কমিয়ে দিয়েছেন, আগে যেখানে ২০০ টাকা দেওয়া হতো ১৫০ টাকা দেওয়া হয় এবং ১০০ টাকার পরিবর্তে এখন ৫০ টাকা দেন দোকান মালিক কর্তৃপক্ষ।
এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রেজা চৌধুরী সেলিমকে অনেকেই পরিবারের একজন সদস্য বলে মনে করেন। তাদের ভাষ্য যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে তার কাছে গেলে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সমাধানের চেষ্টা করেন। এসব কারণে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে তাকে একজন শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন ভোটারগন ।
অন্যদিকে এলাকাবাসীর ধারণা বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপি প্রার্থীর বিকল্প নাই তবে অবশ্যই সে ক্ষেত্রে একক প্রার্থীর বিকল্প নাই। বিএনপিকে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং একক প্রার্থী সমর্থন দিতে হবে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার তমিজ ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছেন। তবে স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, ৫ আগস্টের আগে জামাতে ইসলামী সংগঠনের কাউকে তেমন কোন জোরালো ভূমিকায় দেখা যায়নি এবং কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে তেমন পরিচিত ছিলনা এবং বিগত আওয়ামী সরকারের আমলেও তাদের এলাকায় তেমন কোন কর্মকান্ড বা জনগণের পাশে থেকে উল্লেখযোগ্য কোন ভূমিকায় তাকে দেখা যায়নি। এমত অবস্থায় ভোটারগন যদি জামাত ইসলামী প্রার্থীকে নির্বাচিত করেন সে ক্ষেত্রে এলাকার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন উন্নয়নের সহায়ক হবেনা বলে এলাকাবাসী মনে করেন। বর্তমান সরকার বিএনপি সরকার আমরা এলাকাবাসী যদি জামাতের ইসলামী কোন প্রার্থীকে নির্বাচিত করি তিনি শুধু সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন এলাকার উন্নয়ন করতে পারবেন বলে আমাদের মনে হয় না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সমর্থনের কারণে ইঞ্জিনিয়ার তমিজ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে পরিচিতি এবং সাংগঠনিক উপস্থিতির ক্ষেত্রে তাকে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনী আলোচনায় এস এম রেজা চৌধুরী সেলিম তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা।
তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।