প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ সরকারকে দেশের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীন সফরে তিনি দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন।
শনিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) ষোড়শ কার্যদিবসে তাঁর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য উত্থাপিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার পর সংসদ নেতা হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিষয় এখানে নেই। সফরে যদি কোনো ইতিবাচক অর্জন হয়ে থাকে, তবে সেটি সরকারের নয়, বাংলাদেশের অর্জন এবং দেশের মানুষের অর্জন।”
তিনি আরও বলেন, সংসদের পক্ষ থেকে তাঁকে যে সম্মান ও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে, তার জন্য তিনি সব সংসদ সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, তাঁদের রাজনৈতিক দর্শনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘বাংলাদেশ প্রথম’, আর সেই নীতিকেই সামনে রেখে সরকার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতাকেও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার বিষয়ে বিরোধীদল থেকেও ইতিবাচক সহযোগিতা ও উৎসাহ পাওয়া গেছে।
এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক দুই দেশ সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সফরের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
কণ্ঠভোটের আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সংসদে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।