• শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline
ডিজিএফআইয়ের জেআইসি পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আট জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে অপপ্রচার, যাচাই ছাড়া প্রচার না করার আহ্বান ‘মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ, কোনো রাজনৈতিক দলের নয়’ —ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ আইনি জটিলতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে হুমকিতে দেশের পান রপ্তানি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম চট্টগ্রাম সফরে তারেক রহমান রোববার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব পুরো জাতির, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়: তথ্যমন্ত্রী টেকসই গণতন্ত্রে স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল চৌদ্দগ্রামে করপাটি আদর্শ ইসলামী মিশন মহিলা মাদরাসায় পরিচালক-প্রবাসী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার 

‘মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ, কোনো রাজনৈতিক দলের নয়’ —ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

একুশে সংবাদ ডেস্ক / ০ Time View
Update : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ এবং মানুষের ভোটাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না। জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে গণতন্ত্রকে পদদলিত করার ফলেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসের অনেক ঘটনা জনগণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে স্বাধীনতা যুদ্ধের অসংখ্য ঘটনা, ত্যাগ ও বীরত্বগাথা এখনও সাধারণ মানুষের কাছে অজানা। এসব ইতিহাস সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।

শুক্রবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস-এর ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পর এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে যে, কেবল কয়েকটি ভাষণের মাধ্যমেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। অথচ প্রকৃত সত্য হলো—অসংখ্য তরুণ, সাধারণ পরিবারের সন্তান এবং সামরিক ও বেসামরিক মানুষ জীবন উৎসর্গ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা, সম-অধিকার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে কীভাবে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন কী ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মকে কাজ করতে হবে এবং একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

‘আর কোনো স্বৈরশাসনের সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়’

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে আর কোনো স্বৈরশাসনের সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়। সরকার ভুল করলে জনগণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা সংশোধন করবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করা উচিত নয়।

মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। শারীরিক যোগ্যতার কারণে অনেক তরুণকে যুদ্ধে নেওয়া সম্ভব না হলে তারা কান্নায় ভেঙে পড়তেন। দেশের জন্য লড়াই করার সুযোগ পেতে কেউ কেউ এমনকি গাড়ির সামনে পর্যন্ত শুয়ে পড়তেন। এসব ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অনন্য ও গৌরবময় অধ্যায়।

তিনি বলেন, তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জনগণের ভোটের প্রতি কোনো সম্মান দেখায়নি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এ দেশের মানুষ ছয় দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রায় দিলেও সেই গণরায় উপেক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র মানুষের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন শুরু করলে বাঙালি সামরিক সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের বাঙালি সদস্যরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়নগুলো প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাঁদের নেতৃত্ব ও আহ্বানে হাজার হাজার ছাত্র-যুবক মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গ

বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিশেষ করে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে উদ্দীপ্ত করেছিল। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোনো ব্যক্তিগত কৃতিত্ব অর্জনের জন্য যুদ্ধ করেননি। দেশের অস্তিত্ব, মানুষের জীবন এবং মা-বোনের সম্মান রক্ষার জন্যই তারা অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মনে করেছিল বাঙালিরা যুদ্ধ করতে পারবে না। কিন্তু বাঙালি সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধারা সাহস, দক্ষতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেন।

‘মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের মানুষ যে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, সেটিও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে রাজনীতিকদের আত্মসমালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। এ সময় তিনি তাঁর প্রয়াত স্ত্রী দিলারা হাফিজের কথাও স্মরণ করেন।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গড়ে ওঠার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ছিল ছোট। তবে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গের অদম্য মানসিকতাই ছিল সেই বাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মেজর এ মতিন চৌধুরী। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বক্তব্য শেষে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে সংগঠনের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিরান হামিদুর রহমান উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category