• শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
প্রধানমন্ত্রীর সফরে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ায় উৎসব, বাজিতপুরবাসীর প্রশ্ন—‘আমাদের জন্য কী?’ অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সংস্কৃতি চর্চাকে লালন ও পরিচর্যা করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বেগম খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অদম্য কণ্ঠস্বর চিকিৎসক ও রোগীর আস্থা, সহানুভূতির বন্ধনই চিকিৎসাসেবার মূল ভিত্তি : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও প্রেরণা বিএনপিকে পথ দেখায়: সাবেক মহাসচিব একজনের হাতে একাধিক মন্ত্রণালয়, কোথাও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজে গ্যাস লিকেজ ও বিস্ফোরণ: প্রাণহানি অন্তত ৮, ইয়ার্ডে ভাঙচুর এপিএসসির উপদেষ্টা হলেন ঢাকা জেলার এসপি শামীমা পারভীন বেগম খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অদম্য কণ্ঠস্বর হাসিনার প্রত্যর্পণ না হলে ভারত সফর নয়, ব্রিকসেও যাবেন না তারেক

ইরানে মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে ৩০টির বেশি দেশের

আন্তজাতিক ডেস্ক / ২৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

 

ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ ৩০টির বেশি দেশ বুধবার ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ভিন্নমত দমন করতে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিকসহ এসব দেশ ইরানে ‘বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার অব্যাহত রাখার তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভিন্নমত দমন, জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখানো এবং মানবাধিকার প্রয়োগকারী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার কখনোই ন্যায্য হতে পারে না।’

এতে আরও বলা হয়, ‘ইরানের জনগণকে কোনো ধরণের ভয় ছাড়াই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে।’

প্রাথমিকভাবে ২৬টি দেশ ও ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস এই বিবৃতিতে যুক্ত ছিলেন। পরে ‘আরও কয়েকটি দেশ এই ঘোষণায় যোগ দেয়।’

ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এএফপিকে জানিয়েছে, এতে স্বাক্ষরকারী দেশের সংখ্যা বেড়ে ৩২ হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি এবং ইউরোপের আরও অনেক দেশ ইরানকে ‘অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বন্ধ এবং নির্বিচারে আটক সব ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। বছরের শুরুতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর পর ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

আগস্টের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছিলেন, তেহরান ‘ভয় সৃষ্টি করতে’ মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ মার্চ থেকে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনের মামলা বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তুর্ক বলেন, একই ধরণের অভিযোগে আরও শতাধিক মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ন্যায্য বিচার না পাওয়া এবং জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া একটি আন্দোলন ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষ ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। তবে তারা সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করে।

বিদেশভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও বেশি মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে। তারা বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক্সে বিবৃতিটি পোস্ট করে বলেন, ‘ন্যায়বিচার ও মর্যাদার দাবিতে ইরানের জনগণের ওপর সংঘটিত ব্যাপক নৃশংসতার সাত মাস পরও সরকার ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে রক্তপাত অব্যাহত রেখেছে।’

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

এর পর থেকে সংঘাত ও বিক্ষোভ—উভয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরানে ২ হাজার ১৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুঅনলাইন ডেস্ক.দণ্ড কার্যকর করা হয়। চীনকে বাদ দিলে এ সংখ্যা বিপুল ব্যবধানে ইরানকে বিশ্বের সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশে পরিণত করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category