নিউজ ডেস্ক: সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কার্যক্রম ও অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য আমদানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদের মূল বিষয়বস্তু ও সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ:
সার মজুত ও ষড়যন্ত্র রোধ: দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে এবং গত বছরের চেয়েও মজুত বেশি। সারের কৃত্রিম সংকটের গুঞ্জনকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।
‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ: প্রতি মাসে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ কৃষকের মাঝে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের ডেটাবেজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন: গত ছয় মাসে ২৫ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৪ লাখ ১৮ হাজার চারা এবং ৪৭৮.৯ কিমি খাল খনন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫.৬১ কিমি খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে।
পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ: চলতি বছর কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। প্রযুক্তির সাহায্যে ৬ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের অবকাঠামো তৈরি করা হবে।
নতুন ধানের জাত ‘ব্রি ১১৮’: আগামী বছর থেকে হাওর এলাকার জন্য উপযোগী আগাম জাতের ‘ব্রি ১১৮’ ধান চাষ শুরু হবে, যা সাধারণ জাতের চেয়ে ১০-১৫ দিন আগেই রোপণ করা যাবে এবং আগাম বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাবে।
সৌরবিদ্যুতে সেচ ব্যবস্থা: সেচ খরচ কমাতে দেশের সব সেচ পাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকার পাটবীজ, পেঁয়াজবীজ ও আদা সহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশকে কৃষিতে পুরোপুরি স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।