• শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন
Headline
গুমের অন্ধকার অধ্যায়কে সামনে এনেছে : ‘গুম দিবস’ নামে পরিচিত হেফাজতে ইসলামের আমির বাবুনগরীর সাক্ষাৎ করলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী কাপ্তাই হ্রদের ১৬টি জলকপাট দিয়ে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি:  ছাড়ার প্রস্তুতি সাত নির্দেশনা ঢাকার যানজট নিরসনে : প্রধানমন্ত্রীর  আজ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ-ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন  প্রেমের নাটক ও সিনেমা বন্ধে আইনি নোটিশ : নৈতিক অবক্ষয় নিরাপদে আছেন অপু : শুটিং করতে নেপাল সারে কোনো সংকট নেই, সুশৃঙ্খল বিতরণে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়, গলছে হিমবাহ: বাড়ছে বন্যা-ভূমিধসের ভয়

গুমের অন্ধকার অধ্যায়কে সামনে এনেছে : ‘গুম দিবস’ নামে পরিচিত

গুম দিবস / ২০ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক দিবস, যা সাধারণভাবে ‘গুম দিবস’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ যখন এটি পালন করছে, তখন দেশটি তার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম উদ্বেগজনক অধ্যায়ের সম্মুখীন হচ্ছে।

অধ্যায়টি ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে ব্যাপক জোরপূর্বক গুমের অভিযোগে জর্জরিত।

ভুক্তভোগীদের সম্মান জানানো, তাদের পরিবারকে সহায়তা করা এবং গোপন আটক ও জোরপূর্বক অপহরণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিবছর ৩০ আগস্ট দিবসটি পালন করা হয়।

বছরের পর বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তুলে নিয়ে যাওয়ার পর কথিতভাবে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটিয়েছে। অনেক সময় তাদের স্বজনরা জীবিত না মৃত, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানতে পারেনি পরিবার।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গুম সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করলে বিষয়টি আরো জোরালোভাবে সামনে আসে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, তারা ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ পেয়েছে এবং যাচাইয়ের পর তাদের তথ্যমতে, ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে জোরপূর্বক গুম হিসেবে শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ২৮৭টি ঘটনাকে এমন মামলা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে নিখোঁজ ব্যক্তিকে মৃত বলে ধারণা করা হয়।অনলাইন ডেস্ক.

কমিশনের সদস্যদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে এবং ধারণা করা হচ্ছে, ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। কারণ, অনেক ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার কখনোই কমিশনের কাছে আসেনি।

কমিশন জোরপূর্বক গুমকে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, তাদের তদন্তে তৎকালীন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কমিশন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে- বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সালাহউদ্দিন আহমদ ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জামায়াত নেতা আবদুল্লাহিল আমান আজমি, ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের ঘটনা।

অভিযোগগুলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বছরের পর বছর এমন ব্যক্তিদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যাদের কথিতভাবে সাদা পোশাকের নিরাপত্তা সদস্যরা তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যেতেন এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আটকে রাখতেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) এক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো ২০০৯ সাল থেকে ৭০৮টি কথিত জোরপূর্বক গুমের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, আর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ২ শতাধিক কথিত গুমের ঘটনায় জড়িত ছিল।

ঘটনাগুলোর মধ্যে যে ঘটনাটি এই প্রবণতার প্রতীকে পরিণত হয়েছিল, তার একটি হলো বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গাড়িচালকসহ তিনি নিখোঁজ হন। তার অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো, বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমের নিখোঁজ হওয়া। ২০১০ সালের ২৫ জুন ঢাকায় তাকে সাদা পোশাকধারী নিরাপত্তা সদস্যরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার কোনো সন্ধান আর পাওয়া যায়নি।

কমিশনের অনুসন্ধানের ফলাফল এসব দীর্ঘদিনের ঘটনাকে আবারো জাতীয় আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ২০২৬ সালের জুনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক সাক্ষী বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাবেক জ্যেষ্ঠ র‌্যাব কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের কথিত ভূমিকা নিয়ে সাক্ষ্য দেন।

কথিত গুমের শাসনব্যবস্থার অন্যতম শিহরণ জাগানো প্রতীক ছিল ‘আয়নাঘর’, যে শব্দটি এমন গোপন আটককেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, যেখানে ভুক্তভোগীদের কথিতভাবে স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে আটকে রাখা হতো।

জোরপূর্বক গুম বিষয়ে তদন্ত কমিশন বলেছে, তাদের তদন্তে গোপন আটককেন্দ্র এবং এমন একটি ব্যবস্থার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেখানে অভিযানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে খণ্ডিতভাবে পরিচালিত হতো, ফলে দায় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়তো।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কমিশনের প্রথম অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬৭৬টি অভিযোগ পেয়েছে এবং অনুমান করেছে যে, জোরপূর্বক গুমের সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার গুমের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং এসব ঘটনা গোপন রাখার লক্ষ্যে একটি ‘সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা’র কথা বলা হয়।

পরবর্তী সময়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার বলেছিল, সারা দেশে এ ধরনের শত শত গোপন আটককেন্দ্র ছিল, আর অনেক ভুক্তভোগী মাস বা বছর ধরে বন্দি থাকার পর ফিরে এসেছেন এবং অন্যরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

জোরপূর্বক গুম বিষয়ে তদন্ত কমিশন গুমের ঘটনায় একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক মাত্রা খুঁজে পেয়েছে।

চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবিত ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ ছিলেন জামায়াত-শিবিরের নেতা বা কর্মী এবং ২২ শতাংশ বিএনপি ও এর সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কমিশনের মতে, যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এই অনুসন্ধান দীর্ঘদিনের সেই অভিযোগকে আরো জোরালো করেছে যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, নীরব করা বা নিষ্ক্রিয় করার জন্য জোরপূর্বক গুমকে ব্যবহার করা হয়েছে।

একই সময়ে সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জোরপূর্বক গুমের কোনো নীতি পরিচালনার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল।

আওয়ামী লীগের পুরো মেয়াদজুড়েই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ছিল। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের বিষয়ে তথ্যের দাবিতে বারবার বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

ভুক্তভোগীদের পরিবারগুলোর গঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’ সত্য ও জবাবদিহির দাবিতে অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়।

২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকায় পরিবারগুলো ও অধিকারকর্মীরা মামলাগুলোর আন্তর্জাতিক মানের তদন্তের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন। ভুক্তভোগীদের স্বজনরা বছরের পর বছর ধরে চলা অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় তদন্তের দুয়ার খুলে দেয়।

বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট জোরপূর্বক গুম থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুমোদন করে, যা অপরাধটি প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে সুরক্ষার ক্ষেত্রে দেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারকে আরো শক্তিশালী করে।

পরবর্তী সময়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুমোদন করে। যাতে তদন্ত, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ, আইনি সহায়তা এবং গুমের ঘটনাগুলোর জাতীয় তথ্যভাণ্ডারের ব্যবস্থা রাখা হয়।

অধ্যাদেশে গোপন আটককেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও ব্যবহারকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সরকার পরবর্তীতে একটি স্থায়ী আইনি কাঠামোর দিকে এগিয়ে যায়। ২০২৬ সালের মে মাসে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে পরামর্শের পর যথাযথ আইন প্রণয়ন করা হবে, যাতে দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায় এবং বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম আর কখনো ফিরে আসতে না পারে।

‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ শিরোনামের খসড়া আইনটি জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ, দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষা ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।

এতে জোরপূর্বক গুমকে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এতে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যার মধ্যে মৃত্যুর ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারকে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও ক্ষতিপূরণ তহবিল পাওয়ার জন্য ‘গুম সনদ’ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গত ৪ আগস্ট থেকে জনমত গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খসড়া আইনটি বর্তমানে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রকল্প জানিয়েছে, তারা ওই সময়ের নথি সংরক্ষণ করবে, যার মধ্যে জোরপূর্বক গুম, হত্যাকাণ্ড এবং কথিত আয়নাঘর আটকব্যবস্থার বিষয়ও থাকবে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ গুম ও হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত নির্দেশনা রয়েছে বলে কথিত অডিও রেকর্ডিংও সংগ্রহ করেছে।

বাংলাদেশ যখন ‘গুম দিবস’ পালন করছে, তখন নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষগুলোর গল্প এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। পরিবারগুলোর দাবি শুধু ক্ষতিপূরণ বা স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা জানতে চায়, তাদের ছেলে, মেয়ে, স্বামী, বাবা ও ভাইদের কী হয়েছিল এবং তারা চায় দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধান, চলমান ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত আইনি কাঠামো জোরপূর্বক গুমের বিষয়টি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

এখন চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠা করা, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে ন্যায়বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আর কখনো এমনভাবে ব্যবহার করতে না দেওয়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category