যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান দু’বার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করার পর ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী।
মঙ্গলবার এসব জাহাজে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানের তেলবাহী জাহাজে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা হামলা।
মার্কিন সামরিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবে ওয়াশিংটন এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে এর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছাকাছি থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোও তারা লক্ষ্যবস্তু করবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহাজগুলোতে হামলার আগে সেগুলোর ক্রুদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে অচল করে দেওয়া হয়।
সেন্টকম বলেছে, ইরানের সাম্প্রতিক ব্যর্থ হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা করেছে।
তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি সফলভাবে ওই হামলা এড়িয়ে যায় এবং আঞ্চলিক জলসীমায় টহল অব্যাহত রাখে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
এর আগে গত শনিবার ইরান একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারে হামলার চেষ্টা করার পর যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করেছিল বলে সেন্টকম জানিয়েছে।
সেন্টকমের ভাষ্য, মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে আইআরজিসির সব হামলার চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে।
মঙ্গলবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে তেহরান।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, মার্কিন বাহিনী পরিচালিত একটি ডুবো ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে যায়। আঞ্চলিক জলসীমায় চলমান সামরিক অভিযানের সহায়তায় সেটি নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছিল।