ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও তুলনামূলকভাবে কম হলেও পরিস্থিতি হালকাভাবে নিচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি করপোরেশন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭০ রোগী চিকিৎসাধীন থাকলেও গত তিন মাসে শুধু রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৩৬৭ জন।
ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর না থাকলেও সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কায় হাসপাতালগুলোয় আগাম বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত লার্ভিসাইড স্প্রে, ড্রেন পরিষ্কার ও ঝোপঝাড় পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি চলছে জনসচেতনতা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. মো. ওয়াজেদ আলী বলেন, রংপুর বিভাগে ৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অন্য বিভাগের তুলনায় এটা খুবই নগণ্য। এরপরও রংপুর বিভাগে হাসপাতালগুলোতে ১০ শতাংশ বেড ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সিভিল সার্জনরা যৌথভাবে কাজ করছে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, হাসপাতালের শিশু বিভাগ ও মেডিসিন বিভাগ মিলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য ৩৮টা বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত তিন মাসে (৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) ৩৬৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগী মারা যায়নি। বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৪ জন রোগী ভর্তি আছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, গত জুলাই মাস থেকে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রত্যেকটা ড্রেনে প্রতি ৭ দিন অন্তর অন্তর
লার্ভিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। এর বাহিরে রংপুর শহরে যতগুলো পুকুর ডোবা আছে এবং যে জায়গাগুলোতে এডিশ মশা, ডেঙ্গু মশা জন্ম নিতে পারে, সব পুকুরে লার্ভিসাইড স্প্রে করা হয়েছে। রংপুরের আশপাশে যত ঝোপঝাড় আছে। এগুলো রেগুলার পরিষ্কার করা হচ্ছে। এর বাইরে জুলাইয়ের পর থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় আমরা বেশ কয়েকবার মাইকিং করেছি। বাসাবাড়িতে কেউ যেন জমা পানি না রাখে এ বিষয়ে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত তদারকি করছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। স্লাব দেওয়া ড্রেনগুলোর ভেতরে পানি জমে না থাকে এ জন্য নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে।