• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
Headline
ইরাকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ‘ঐতিহাসিক বিজয়’: ইরানের বিপ্লবী গার্ড স্বাগত জানিয়েছে সাংবাদিক তৌহিদুলের ওপর হামলা: কালাইয়ে মানববন্ধন, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান বাড়াতে প্রথা ভাঙার আহ্বান সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানের চৌদ্দগ্রামে বন্ধন কাফেলার সাংগঠনিক সম্পাদক রহিমের ওপর হামলার অভিযোগ ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী পুলিশের নাকের ডগায় ছড়ী ঘুরাচ্ছে ভূমিদস্যু খুনি ও ফৌজদারী অপরাধী গোপালগঞ্জের মহিউদ্দিন শেখ সংরক্ষিত নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত‍্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর একসময় গরিব ছেলেই পছন্দ করতেন জাহান প্রভা, জানালেন কেন আবেদন শুরু হচ্ছে : নতুন কুঁড়ির   অভিযোগে প্রতিবাদের ডাক ভারতের বিরোধী দলগুলোর : ‘ভোট চুরির’ ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন শেষ করেছে

জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান বাড়াতে প্রথা ভাঙার আহ্বান সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকায় লেগেছে অদম্য গতি, বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রবৃদ্ধির গল্প আজ ঈর্ষণীয়। অথচ সমৃদ্ধির এই মহাকাব্যে এক অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করছে দেশের বীমা খাতে। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় এই সম্ভাবনাময় খাতের অবদান এখনো বেশ মলিন। আধুনিক অর্থনীতির এই অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তিকে পূর্ণাঙ্গরূপে জাগিয়ে তুলতে গতানুগতিক প্রথা ভাঙা এবং যুগোপযোগী সংস্কার এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। মানুষের মন থেকে শঙ্কার মেঘ সরিয়ে সচেতনতার আলো জ্বালানো, নন-লাইফ বীমার অনৈতিক ‘কমিশন প্রথা’র বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা, দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি গড়ে তোলা এবং দীর্ঘদিনের আস্থাসংকট কাটানোর ওপর জোর দিয়েছেন সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন।

সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান বহু পুরোনো। কখনো পরিচালক, আবার কখনো ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের দক্ষতা ও সুনামের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। শুধু বীমা খাতেই নয়, শিল্পখাতেও তাঁর মেধা ও নেতৃত্বের আলো ছড়িয়েছে; তিনি সফল শিল্পপ্রতিষ্ঠান কমফোর্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তবে রুহুল আমিনের পরিচয় কেবল একজন সফল শিল্পপতিতে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ ক্রীড়ানুরাগী, শিক্ষানুরাগী এবং মানবকল্যাণে ব্রতী দূরদর্শী সমাজসেবক।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর এক হৃদ্যতাপূর্ণ আলাপে তিনি বীমা খাতের নানা চ্যালেঞ্জ ও অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। রুহুল আমিন বলেন, “বীমা খাতকে দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কমিশন পদ্ধতির অনিয়মের কথা শুনে অনেকেই বিমুখ হন, অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এই খাতকে পুঁজি করেই এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো দক্ষ ও শিক্ষিত জনবলের অভাব। এই সংকট দূর করতেই হবে।” বীমা গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের কথা স্মরণ করে তিনি যোগ করেন, বীমা দাবির অর্থ নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়ার স্বচ্ছ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যেই বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইডিআরএ) যৌথভাবে কাঠামোগত পরিবর্তনের এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে দেশের বীমা খাতের সার্বিক পরিস্থিতি ও ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র আঁকেন তিনি। নন-লাইফ বীমা খাতের তীব্র প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “কমিশন নামক বিষাক্ত অনিয়ম এই সম্ভাবনাময় খাতকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। তবে স্বস্তির কথা হলো, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সাহসিকতায় ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রথা চিরতরে বন্ধ হতে যাচ্ছে, যা বীমা খাতে এক নতুন ভোরের সূচনা করবে।”

ভারত, শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের চেয়ে আমাদের অবস্থান পিছিয়ে থাকার নেপথ্য কারণগুলো তুলে ধরে তিনি আফসোস প্রকাশ করেন। শিক্ষিত সমাজেরও একটি বড় অংশ এখনো লাইফ ও নন-লাইফ বীমার মৌলিক পার্থক্য অনুধাবন করতে পারেন না। একদিকে কমিশনের অভিশাপ, অন্যদিকে দক্ষ জনবলের আকাল—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে থমকে আছে খাতটি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, তরুণ ও মেধাবী সমাজ বীমাকে তাদের স্বপ্নের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে দ্বিধা করছে।

এই অচলাবস্থা ভাঙতে তাঁর হৃদয়গ্রাহী সুপারিশ—বীমার প্রয়োজনীয়তার বার্তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, অনৈতিক কমিশন প্রথা চিরতরে স্তব্ধ করা, তরুণদের উদ্বুদ্ধ করা এবং কোম্পানিগুলোতে জবাবদিহিতার আলো জ্বালানো। তরুণদের হৃদয়ে বীমার গুরুত্ব গেঁথে দিতে তিনি কলেজ পর্যায় থেকেই বীমা শিক্ষাকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বতন্ত্র বিভাগ চালুর আকুল আকুতি জানান।

সাধারণ মানুষের মনের গহীনে জমে থাকা আস্থার সংকট দূর করতে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির (ইনস্যুরটেক) পরশ ছোঁয়ানোর বিকল্প দেখছেন না সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান। বিশ্বমানের পরিষেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের যে শুভ সূচনা নিয়ন্ত্রক সংস্থা করেছে, তাকে তিনি স্বাগত জানান।

বীমা দাবি পরিশোধ না করা নিয়ে সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণাকে খণ্ডন করে রুহুল আমিন বলেন, “মুদ্রার দুটি পিঠই দেখতে হবে। ভুয়া ক্ষতির অভিনয় করে অর্থ আত্মসাতের চক্রান্ত যেমন আছে, তেমনি সঠিক নথিপত্রের অভাবে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া নজরদারি এবং বাজারে টিকে থাকার স্বার্থেই প্রকৃত বীমা দাবি পরিশোধ করা এখন প্রতিটি কোম্পানির জন্য বাধ্যতামূলক।” নিজের প্রতিষ্ঠানের সততার দৃষ্টান্ত টেনে তিনি গর্বের সঙ্গে জানান, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড সময়মতো বীমা দাবি পরিশোধে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং পূর্বে সেরা প্রতিষ্ঠানের গৌরব অর্জন করেছে।

ভবিষ্যতের দূরদর্শী রূপরেখা টেনে তিনি বলেন, “সঠিক অবলিখন, আন্তর্জাতিক মানের পুনঃবীমা এবং দ্রুততম সময়ে দাবির টাকা পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকের হৃদয়ে এক অলঙ্ঘনীয় আস্থা তৈরি করাই আমাদের মূল কৌশল।” পর্ষদের প্রণীত আধুনিক নীতিমালা ও নিখুঁত কর্মপরিকল্পনার হাত ধরে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সকে আগামী দিনে দেশের নন-লাইফ বীমা খাতের শীর্ষ মিনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক দৃঢ় ও আশাবাদী স্বপ্ন আঁকেন এই দূরদর্শী কণ্ডার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category