নকলা শেরপুর:
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেরপুরের নকলা পৌরসভায় পরিবর্তনের নতুন হাওয়া বইতে শুরু করেছে। জনপ্রতিনিধি না হয়েও সততা, উচ্চশিক্ষা ও নিজস্ব অর্থায়নে টানা মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মেয়র পদপ্রার্থী মু. হাছিবুল হাসান হাসিব। রাস্তাঘাট সংস্কার, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শত শত প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার প্রদানসহ মাঠপর্যায়ের নানা সামাজিক পদক্ষেপে ভোটারদের নজর কেড়েছেন তিনি।
মু. হাছিবুল হাসান হাসিব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলতার সাথে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজপথে সক্রিয় থেকে নীতি ও আদর্শের রাজনীতি করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ করেছেন তিনি। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের এই সদস্যের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, ক্লিন ইমেজ ও দীর্ঘদিনের ত্যাগ বিবেচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাঁকে নকলা পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সবুজ সংকেত দিয়েছে। তরুণ এই প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নকলা পৌরসভার সর্বস্তরের ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কোনো পদে না থেকেও দীর্ঘদিন ধরে নকলা পৌরসভার আনাচে-কানাচে জনসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন এই পদপ্রার্থী। স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাঁর নানা মানবিক উদ্যোগের চিত্র:
প্রতিবন্ধী ও তরুণদের পাশে: শত শত শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করেছেন। তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় উপহার দিয়েছেন শত শত ফুটবল ও ক্রীড়াসামগ্রী।
কৃষি ও স্বাবলম্বিতা: প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ষাঁড় গরু ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক বিতরণ এবং অর্থসংকটে থাকা অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন।
জনকল্যাণমূলক কাজ: দরিদ্র পরিবারের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং অসহায় বয়স্কদের সরকারি ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরাসরি সহযোগিতা করে আসছেন।
স্বাস্থ্য ও সচেতনতা: পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
নকলা পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্রের সাধারণ ভোটার ও সুধী সমাজ প্রার্থী হাসিবকে নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
জালালপুর কেন্দ্রের ভোটার স্বপন মিয়া বলেন, “হাছিবুল হাসান হাসিব একজন সৎ, নম্র ও উচ্চশিক্ষিত মানুষ। তিনি কোনো পদের জন্য বসে না থেকে সব সময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। এমন মানবিক মানুষকে মেয়র হিসেবে পেলে পৌরসভার প্রকৃত উন্নয়ন হবে।”
একই সুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ও সাংবাদিক হযরত আলীর গলায়। তিনি জানান, “সমাজসেবায় তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের মুগ্ধ করেছে। তরুণ ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি আগামী নির্বাচনে বড় চমক দেখাবেন বলে আমরা মনে করি।” এছাড়া এলাকার ডা. ফখরুদ্দিন, আব্দুল বারেকসহ প্রবীণ অভিভাবক ও তরুণ ভোটাররা তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে মেয়র পদপ্রার্থী মু. হাছিবুল হাসান হাসিব বলেন,
“আমি নির্বাচিত হলে নকলা পৌরসভাকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ মডেল শহরে রূপান্তর করব। জনগণের ওপর শাসক হিসেবে নয়, তাঁদের খাদেম ও সেবক হিসেবে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।”
তাঁর প্রধান প্রতিশ্রুতিসমূহ:
নিরাপদ পৌরসভা: পৌর এলাকা থেকে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধ করা।
হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা: জন্মনিবন্ধন, NID সংশোধন ও মেয়রের প্রত্যয়নপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে দালালচক্র ও যেকোনো ধরনের ভোগান্তি পুরোপুরি বন্ধ করা।
ন্যায্য বিচার ও সাম্য: বিচারের নামে রাজনৈতিক অবিচার বা মিথ্যা মামলা বন্ধ করা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত হকদারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
সম্প্রীতি ও সার্বিক উন্নয়ন: মসজিদ-মাদ্রাসার পাশাপাশি অমুসলিম সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ের উন্নয়ন সাধন ও সামাজিক সম্প্রীতি অটুট রাখা।
জনগণের জন্য উন্মুক্ত দ্বার: নাগরিক সেবা পেতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী লাগবে না; প্রতিটি নাগরিক সরাসরি মেয়রের কাছে আসতে পারবেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উচ্চশিক্ষিত ও তরুণ এই সমাজসেবকের প্রতি দিন দিন জনগণের আস্থা যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তিনি চূড়ান্ত সফলতা অর্জনে বেশ সুবিধাজনক স্থানে থাকবেন।