• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
Headline
বাজিতপুরে সংঘর্ষের অবসান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি প্রসাধনীতে পশুর চর্বি! ব্যবহারের আগে জেনে নিন শরিয়তের বিধান : নিত্যব্যবহার্য রিজিকের স্তর কয়টি ও কী কী : প্র্যাকটিসিং মুসলিম পোশাকে বিতর্কে : দীপিকা জেমসসহ গাইবেন যারা, গানের তালে মাতবে নগর নিউজিল্যান্ডের নির্বাচন : প্রচারণার শেষ দিনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের দিকে  তুরস্কের সাবেক মন্ত্রী গ্রেফতার : বিনিয়োগ তহবিল কেলেঙ্কারির তদন্তে  হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী দু’টি ট্যাংকারে আগুন, দাবি ইরানের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অবসরে ফুটবল বিশ্বের শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা হাসান ঘরের মাঠে পাঁচ উইকেট পেয়ে আনন্দিত 

প্রসাধনীতে পশুর চর্বি! ব্যবহারের আগে জেনে নিন শরিয়তের বিধান : নিত্যব্যবহার্য

একুশে সংবাদঃ ইসলামি ডেস্ক / ২৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

আধুনিক জীবনে সাবান, ক্রিম, লোশন, লিপস্টিক ও শ্যাম্পুর মতো প্রসাধনী প্রায় সবার নিত্যব্যবহার্য। এসব পণ্যের উপাদান নিয়ে সচেতন মুসলিমদের মনে প্রশ্ন জাগে, এতে যদি পশুর চর্বি থাকে, তবে তা ব্যবহার করা কি জায়েজ? প্রশ্নটি সরল মনে হলেও উত্তর নির্ভর করে চর্বির উৎস, পশুর ধরন, জবাইয়ের পদ্ধতি এবং ব্যবহারের ধরনের ওপর।

উৎসভেদে হুকুমের পার্থক্য
শূকরের চর্বি। কোরআনে শূকরের মাংস সুস্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে (সুরা বাকারা ১৭৩; সুরা মায়িদা ৩; সুরা আনআম, ১৪৫)। ফকিহগণের মতে শূকর সত্তাগতভাবেই নাপাক। তাই কোনো প্রসাধনীতে নিশ্চিতভাবে শূকরের চর্বি থাকলে তা বর্জন করাই কর্তব্য।

শরিয়ত সম্মতভাবে জবাই না করা হালাল পশুর চর্বি। এ ধরনের চর্বি খাওয়া হারাম। তবে ত্বকে বা চুলে লাগানোর মতো বাহ্যিক ব্যবহার নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ কেউ খাওয়া ছাড়া অন্য ব্যবহারের অনুমতি দেন, আবার অনেকে নাপাক হওয়ার কারণে বা সতর্কতাবশত তা বর্জন করতে বলেন। তাই মতভেদের এই জায়গায় এড়িয়ে চলাই নিরাপদ পথ। শরিয়তসম্মতভাবে জবাই করা হালাল পশুর চর্বি। এ ক্ষেত্রে সাধারণভাবে কোনো আপত্তি নেই।

সন্দেহ দূর করার প্রথম উপায়
পণ্যের মোড়কে উপাদানের তালিকা থাকলে সন্দেহের জায়গা অনেকটাই কমে যায়। এটিই সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থা। তবে তালিকায় সরাসরি পশুর চর্বি না লিখে প্রযুক্তিগত নামও থাকতে পারে, যেমন Tallow, Lard, Stearic acid, Glycerin ও Gelatin। এগুলোর উৎস উদ্ভিজ্জ, না প্রাণিজ, তা জানা জরুরি। উৎস প্রাণিজ হলে সেটি শূকুর কি না, কিংবা জবাই হালাল পদ্ধতিতে হয়েছে কি না, তা পণ্য দেখে বোঝা কঠিন। তাই বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের হালাল সনদ আছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো।

তালিকা না থাকলে করণীয়
মোড়কে তালিকা না থাকলে বা উৎস অস্পষ্ট হলে মানুষ সাধারণত দ্বিধায় পড়ে। তখন এ বিষয়ে জানেন এমন ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যেমন রসায়নবিদ, খাদ্য ও প্রসাধনী প্রযুক্তিবিদ এবং হালাল সার্টিফিকেশন বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তি। শরিয়তের হুকুম জানতে নির্ভরযোগ্য আলেম বা ফতোয়া বিভাগের শরণাপন্ন হওয়া উত্তম।

বিকল্পের সহজলভ্যতা
আজ বহু মুসলিম দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হালাল সনদপ্রাপ্ত, অ্যালকোহল-মুক্ত ও শূকরজাত উপাদানমুক্ত প্রসাধনী তৈরি করছে। উদ্ভিজ্জ উপাদানভিত্তিক পণ্যও বাজারে পাওয়া যায়। একটু খোঁজ করলে নিশ্চিন্তে ব্যবহারযোগ্য বিকল্প হাতের নাগালেই মেলে।

ভারসাম্যের গুরুত্ব
এ বিষয়ে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো পণ্যকে হারাম ঘোষণা করা ঠিক নয়। শরিয়ত অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করে, কারণ তাতে জীবন অকারণে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

নুমান ইবনে বাশির (রা.) বর্ণিত হাদিসে (বুখারি ৫২ ও মুসলিম ১৫৯৯) বলা হয়েছে, হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট, আর এ দুইয়ের মাঝখানে কিছু সন্দেহজনক বিষয় আছে। যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে নিজের দ্বীন ও সম্মান রক্ষা করে। এই হাদিস থেকে নীতিটি এভাবে সাজানো যায়: যা নিশ্চিতভাবে হারাম, তা বর্জন করা অপরিহার্য। যা সন্দেহজনক, তা এড়িয়ে চলা উত্তম। যা কেবল অনুমানভিত্তিক, তার ওপর হারামের হুকুম আরোপ করা অনুচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category