ঈদের পশুর হাটে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে ডিএমপি
ডিএমপি ডেস্ক.
/ ১৩
Time View
Update :
শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
Share
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নিরাপদ কেনাবেচা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশ ক্যাম্প, ওয়াচ টাওয়ার এবং জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরউদ্দিন জানিয়েছেন, রাজধানীর সব পশুর হাট ও আশপাশের এলাকায় ইউনিফর্মধারী এবং সাদা পোশাকের পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি গাড়ি ও মোটরসাইকেলসজ্জিত টহল দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, পশুর হাটগুলোকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হবে এবং প্রতিটি হাটে পুলিশ ক্যাম্প ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে। এছাড়া রাজধানীর প্রবেশ ও বাহিরমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ চেকপোস্ট চালু থাকবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে জাল নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পশুর হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হবে। এ জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে ১৫০টি মেশিন সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, ইজারাদার ও ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত মেশিন সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নাসিরউদ্দিন জানান, গত ১ মে থেকে জাল নোট চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জাল নোট ও সরঞ্জামসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া বড় অঙ্কের অর্থ নিরাপদে পরিবহনের জন্য এবারও ‘মানি এসকর্ট’ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে অর্থ বহন করতে পারবেন।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ ঠেকাতে পুলিশকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। গত ১ মে থেকে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজসহ ১ হাজার ৯০০-এর বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন তালিকাভুক্ত এবং ৪০০ জন তালিকাবহির্ভূত চাঁদাবাজ।
ডিএমপি জানিয়েছে, ঈদের পুরো সময়জুড়ে চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর প্রধান শপিং মল ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। নারী ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারী পুলিশ সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে ঈদের ছুটিতে অনেক নগরবাসী গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় আবাসিক এলাকাগুলোতে চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ টহল ব্যবস্থা চালু থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
এ বছর রাজধানীতে মোট ২৭টি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ১৬টি হাট থাকবে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণের কারণে স্থায়ী সারুলিয়া পশুর হাট এ বছর বন্ধ থাকবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।