কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল মসজিদের ওজুখানার ৭৬টি কল, ৮টি এসির তামার পাইপ এবং বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মসজিদ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশে চুরির বিষয়টি নজরে আসে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ওজুখানার অধিকাংশ কল খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া মসজিদের এসিগুলোর তামার পাইপ ও সংযোগ তার কেটে নেওয়ায় সেগুলো অচল হয়ে পড়েছে। এতে সরকারের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ইসলামি শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও ধর্মীয় স্থাপনা থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা থেকে এত বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি হলো কীভাবে? নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা তখন কোথায় ছিলেন? রাতের বেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিকল্পিতভাবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে এই চুরি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। কারণ ৭৬টি কল খুলে নেওয়া এবং ৮টি এসির তামার পাইপ ও বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যাওয়া কোনো স্বল্প সময়ের কাজ নয়। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি।
এলাকাবাসী বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যদি এভাবে চুরি সংঘটিত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের সম্পদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মডেল মসজিদে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সিসিটিভি ক্যামেরা কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ধর্মীয় স্থাপনায় সংঘটিত চুরির ঘটনা জনমনে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।