নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দাবি করেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় মাদকের চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার আশপাশের সীমান্তপথ দিয়ে আসে। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সততা ও দৃঢ় পদক্ষেপ প্রয়োজন।
শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অতীতে ওই সীমান্ত এলাকার মাদক পাচার নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদীর নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকলেও ওই পথে মাদক পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সীমান্ত দিয়ে মাদক আসা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সংকট এখন মাদকাসক্তি। এ প্রসঙ্গে নিজের নির্বাচনী এলাকার একটি ১০ শয্যার হাসপাতালের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং সেখানে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে।
গয়েশ্বর বলেন, হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হলেও বর্তমানে সেখানে রোগী, চিকিৎসক কিংবা প্রয়োজনীয় জনবল নেই। অথচ ওই এলাকায় সরকারি হিসাবে প্রায় ছয় লাখ এবং বেসরকারি হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। এত বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মাদকবিরোধী আইন থাকলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক দক্ষতা, সৎ সাহস এবং আন্তরিকতার বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্য সংসদে দেওয়া তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মন্তব্য ও অভিযোগ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।