জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নে দুটি সার গুদামে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে দুই সার ডিলারকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বেগুনগ্রাম ও মোলামগাড়ী বাজার এলাকায় অবস্থিত দুটি সার গুদামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সার বিক্রির নথিপত্র, মূল্যতালিকা, ক্যাশমেমোসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়।
অভিযানকালে ক্যাশমেমো ব্যবহার না করা, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং স্টক রেজিস্টারে অসংগতি পাওয়ায় বেগুনগ্রামের ভাই ভাই স্টোর অ্যান্ড ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহমান আকন্দকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযোগে মোলামগাড়ী বাজারের সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সালামকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় দুই ডিলারকে মোট ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের জন্য সার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ। তাই নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে সার বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা কিংবা ক্রেতাদের ক্যাশমেমো না দেওয়ার মতো অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কৃষি মৌসুমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুন উর রশিদ বলেন, উপজেলায় বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষক ও জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুন উর রশিদসহ কালাই থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, কৃষকদের কাছে নিয়ম মেনে সঠিক দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। সার বিক্রিতে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দাম আদায় কিংবা ক্রেতাদের হয়রানি করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, কৃষি মৌসুমে সারের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিলারদের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকলে কৃষকেরা ন্যায্য দামে সার পাওয়ার পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতাও কমবে।