দীর্ঘ এই পথচলায় অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে এত বছরের ঐতিহ্য ও অবদানের পরও প্রতিষ্ঠানটি এখনো সরকারি না হওয়ায় সরকারিকরণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহল, সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, বাজিতপুরের শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতিতে বিদ্যালয়টির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বহু শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
১৩৬ বছরের ঐতিহ্য, এবার সরকারি স্বীকৃতির প্রত্যাশা
এলাকাবাসীর মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৩৬ বছরের পথচলা শুধু একটি সময়ের হিসাব নয়; এটি একটি অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাস। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেছেন।
তাদের প্রশ্ন—এত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন এখনো সরকারি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে না?
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য, শিক্ষা বিস্তারে অবদান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, অবকাঠামো ও সামগ্রিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
‘সরকারিকরণ হলে শিক্ষার মান আরও বাড়বে’
সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত হবে। পাশাপাশি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ হতে পারে।
তারা মনে করছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করলে সরকারিকরণের যৌক্তিকতা স্পষ্ট হবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগের প্রত্যাশা
এলাকাবাসী বলছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাজিতপুরের ১৩৬ বছরের পুরোনো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকেও সরকারিকরণের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তাদের দাবি, বাজিতপুর হাফেজ আবদুর রাজ্জাক পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি বিদ্যালয় নয়—এটি বাজিতপুরের শিক্ষা-ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ইতিহাস ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান বিবেচনা করে সরকারিকরণের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ১৩৬ বছরের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সরকারিকরণের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেবে।
এখন সময় এসেছে ঐতিহ্যের এই প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার। ১৩৬ বছরের গৌরবময় পথচলার পর বাজিতপুরবাসীর প্রত্যাশা—‘সরকারিকরণ হোক বাজিতপুর হাফেজ আবদুর রাজ্জাক পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের।’