সেই বাস্তবতায় পরিবর্তনের বড় একটি অধ্যায় তৈরি করেছে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে প্রতিষ্ঠিত এই চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বৃহত্তর এলাকার মানুষের কাছে আধুনিক চিকিৎসাসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা হিসেবে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠানটির যাত্রার পেছনে রয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবী প্রয়াত জহুরুল ইসলাম। তাঁর নিজ জন্মভূমি ভাগলপুরে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবাকে একই ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে। হাসপাতালের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দিয়ে যাত্রা শুরু হয় এবং বর্তমানে এখানে ৫০০-এর বেশি শয্যার সুবিধা রয়েছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ
শহর থেকে দূরে গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এখানে জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা সার্বক্ষণিকভাবে চালু রয়েছে।
হাসপাতালে বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি ও অবসসহ একাধিক বিভাগ রয়েছে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবাও রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা, আধুনিক অবকাঠামো
জরুরি মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়টি রোগী ও স্বজনদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুবিধার তালিকায় ২৪ ঘণ্টার জরুরি সেবা, ৫০০-এর বেশি শয্যার হাসপাতাল, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং চিকিৎসা ও শিক্ষার বিভিন্ন অবকাঠামোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
চিকিৎসার পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সুযোগও রয়েছে এখানে। ফলে এটি শুধু একটি হাসপাতাল নয়, বরং চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সমন্বিত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবেও ভূমিকা পালন করছে।
‘মানবসেবাই বড় কথা’—জহুরুল ইসলামের স্বপ্ন
প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রয়াত জহুরুল ইসলামের মানবকল্যাণের স্বপ্ন। নিজের জন্মভূমিতে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
বর্তমানে তাঁর সেই উদ্যোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরাও এখানে চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয় মানুষের কাছে আশার ঠিকানা
কিশোরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এখন শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়—অনেকের কাছে এটি সংকটের সময়ে আশ্রয় ও আস্থার জায়গা।
জটিল রোগের চিকিৎসা, জরুরি সেবা, অস্ত্রোপচার, বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগ এবং রোগ নির্ণয়ের সুবিধা একই প্রতিষ্ঠানে পাওয়ার সুযোগ থাকায় এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানুষের সেবা করবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
মানবসেবার এই যাত্রা হোক আরও দীর্ঘ
একজন মানুষের স্বপ্ন থেকে গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে একটি পুরো অঞ্চলের মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন আনতে পারে, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
কিশোরগঞ্জের ভাগলপুরে দাঁড়িয়ে তাই প্রতিষ্ঠানটি শুধু চিকিৎসা দিচ্ছে না; একই সঙ্গে বহন করছে মানবসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য।