শান্তি ও মানবতার জয়গানে মুখরিত শিল্পকলা একাডেমি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাঙালি জাতিসত্তা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মহানায়ক বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী গোপালগঞ্জে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মহান কবি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেন। তাঁর সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবতার বাণী আজও বাঙালির চেতনায় প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।
শুক্রবার ২৫শে বৈশাখ গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলা সাহিত্যের কবি নন, তিনি মানবতা, শান্তি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম পথপ্রদর্শক। তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও সমাজকে আলোকিত করে চলেছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে বিভেদ ও অস্থিরতার বিপরীতে রবীন্দ্রচেতনা মানুষের মাঝে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শন ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেন তারা।
পরে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পুরো শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধকে নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। রবীন্দ্রচেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একটি সুন্দর, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিরা।