গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থী, নবনিযুক্ত ভিসির সমর্থক এবং পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এতে গাজীপুর সদর মেট্রোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য এবং অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল-কে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার সকাল থেকে ‘নবাগত ভিসিকে লাল কার্ড’ প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন। এ সময় নবনিযুক্ত ভিসির সমর্থক এবং বহিরাগতদের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষটি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, ভিসি সমর্থক এবং পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা শান্তিপূর্ণ ভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। হঠাৎ দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত একদল বহিরাগত তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে অনেক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হন এবং তাঁদের কয়েকজনকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি, ডুয়েটের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দিতে হবে। তাঁদের মতে, ডুয়েটের বিশেষায়িত শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, একাডেমিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তুলনামূলক ভাবে বেশি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগই অধিক কার্যকর হবে।
গাজীপুর সদর মেট্রোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে রয়েছি। আমিসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।