কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের টিকিট এখন সাধারণ যাত্রীদের জন্য যেন সোনার হরিণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে দেখছেন—মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট “শেষ”। অথচ পরে সেই টিকিটই দালালদের মাধ্যমে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে প্রতিদিন প্রায় ২৭০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারেন। কিন্তু অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম, টিকিট ব্লক ও হ্যাকিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ টিকিট পাচ্ছেন না। যাত্রীরা বলছেন, অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি চক্র সফটওয়্যার বা বট ব্যবহার করে অধিকাংশ টিকিট কিনে নিচ্ছে। পরে এসব টিকিট বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী যাত্রী বলেন,
“রাত জেগে অনলাইনে বসে থাকি, কিন্তু টিকিট ছাড়ার ২-৩ মিনিটের মধ্যেই সব শেষ। পরে দালালদের কাছে গেলে টিকিট পাওয়া যায়, তবে দ্বিগুণ দাম দিয়ে।”
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিদিন সরকার যেখানে টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা রাজস্ব পায়, সেখানে দালাল, ব্ল্যাকার ও অসাধু রেলকর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে অতিরিক্ত প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এতে একদিকে সরকার হারাচ্ছে সুনাম, অন্যদিকে সাধারণ জনগণ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
সচেতন মহল বলছে, রেলওয়ের টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি না বাড়ালে এই দালাল চক্র আরও শক্তিশালী হবে। তারা দ্রুত টিকিট ব্লক ও কালোবাজারি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জনগণের প্রশ্ন—
“এটা কোন দেশে বসবাস করছি আমরা? সাধারণ মানুষ কি ন্যায্য দামে ট্রেনের টিকিটও পাবে না?”