ম্যাচের বয়স তখন ৭৪ মিনিট। মাঠের চতুর্থ অফিশিয়ালের বোর্ডে ভেসে উঠল ‘১১’ নম্বর জার্সি। অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে বসা হাজার হাজার দর্শক একযোগে দাঁড়িয়ে গেলেন। করতালির গগনবিদারী শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠলো গোটা স্টেডিয়াম। সতীর্থরা একে একে জড়িয়ে ধরলেন তাকে। এরপর সবুজ ঘাসে শেষবারের মতো সিজদাহ দিয়ে মাঠ ছাড়লেন মোহাম্মদ সালাহ। চিরতরে শেষ হলো লিভারপুলের জার্সিতে এক সোনালী ও গৌরবময় অধ্যায়।
গতকাল প্রিমিয়ার লীগের শেষ দিনে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল লিভারপুলে সালাহর শেষ মিশন। দীর্ঘ ৯ বছরের অ্যানফিল্ড অধ্যায়ের সমাপ্তিটা জয়ে রাঙাতে পারেনি অলরেডরা, ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। তবে এই ড্রয়ের এক পয়েন্টেই আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ খেলা নিশ্চিত করে লিভারপুল। ম্যাচে গোল না পেলেও ইতিহাস গড়েই বিদায় নিয়েছেন সালাহ। ৫৮ মিনিটে কার্টিস জোন্সের গোলে অ্যাসিস্ট বা জোগানদাতা ছিলেন তিনি। আর এই একটি অ্যাসিস্টেই কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ডকে (৯২) টপকে প্রিমিয়ার লীগে লিভারপুলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের (৯৩) অনন্য রেকর্ড নিজের করে নেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড।
২০১৭ সালে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে অ্যানফিল্ডে এসেছিলেন সালাহ। সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের অধীনে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। প্রিমিয়ার লীগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগসহ জিতেছেন ক্লাবের সব সম্ভাব্য শিরোপা। বর্তমান কোচ আর্নে স্লটের অধীনে গত মৌসুমেও ২৯ গোল করে লীগ পুনরুদ্ধারে রাখেন বড় ভূমিকা। তবে চলতি মৌসুমটা সালাহর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কোচ স্লটের সঙ্গে নানা কারণে দূরত্ব তৈরি হয়। কখনো শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়া, কখনোবা স্কোয়াড থেকেই ছিটকে যাওয়া। সালাহ নিজেকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর অভিযোগও তুলেছিলেন। বিদায়ের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লাবের খেলার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন এই তারকা। সব জল্পনা-কল্পনা আর তিক্ততা ভুলে শেষ ম্যাচে ঠিকই সালাহকে শুরুর একাদশে রাখেন কোচ।
বিদায়ের মঞ্চে দুর্দান্ত খেলে রেকর্ড গড়ার পর ম্যাচ শেষে সালাহর জন্য বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৪২ ম্যাচে ২৫৭ গোল আর ১২৩টি অ্যাসিস্ট নিয়ে লিভারপুলের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিদায় নিলেন সালাহ। ট্রফি আর রেকর্ডের খেরোখাতা যাই বলুক, অ্যানফিল্ডের দর্শকেরা যে তাদের ‘মিশরীয় রাজা’কে আজীবন মনে রাখবেন, তা রোববারের ওই ৭৪ মিনিটের করতালিতেই স্পষ্ট।