আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির কাঁচা চামড়ার নতুন মূল্য নির্ধারণ, সংরক্ষণ, প্রচার কার্যক্রম জোরদার এবং চামড়া পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ঢাকায় প্রতি বর্গফুটে গড়ে ২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে সমপরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে আবুল হোসেন লেদার কমপ্লেক্সের মালিক ও ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সাবের হোসেন ভুইয়া বাসস’কে বলেন, গরুর চামড়া সাধারণত ২০ থেকে ৪৫ বর্গফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। আকারভেদে গরুর চামড়ার মাপ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। যেমন সাধারণত ১ লাখ টাকা বা তার কম মূল্যের গরুর চামড়া ছোট আকারের হয়, যার মাপ ২০ থেকে ২২ বর্গফুটের মতো।
তিনি জানান, মাঝারি আকৃতির গরুর চামড়া সাধারণত ২০ থেকে ২৮ বর্গফুট বা এর কিছুটা বেশি হতে পারে। বড় গরুর চামড়া সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বর্গফুট পর্যন্ত হয়। এছাড়া অত্যধিক বড় সাইজের গরুর চামড়া ৫০ বর্গফুট পর্যন্ত হতে পারে। সে হিসাবে একটি গরুর চামড়ার দাম ১২ শত টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
এছাড়া খাসির চামড়া সারা দেশে প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খাসির চামড়া সাধারণত ৩ থেকে ৬ বর্গফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। সে হিসেবে খাসির চামড়ার দাম ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম:
চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানো, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে টেলিভিশন কমার্শিয়াল (টিভিসি) নির্মাণ করে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হবে।পাশাপাশি সরকারি ওয়েবসাইট ডোমেইনে পপ-আপ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতোমধ্যে বিসিকের পক্ষ থেকে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় প্রায় ২ লাখ লিফলেট বিতরণ, হাটে হাটে ব্যানার স্থাপন এবং মোবাইল ফোনে এসএমএস বার্তা প্রেরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বাসসকে জানান বিসিকের লেদার সেলের উপ পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
চামড়া ঢাকায় প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ:
চামড়া শিল্পনগরীতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (সিইটিপি) সক্ষমতার মধ্যে ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কোরবানির পরবর্তী সাতদিন ঢাকার বাইরে থেকে চামড়া ঢাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
এ সময় ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও টোল প্লাজায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হবে। স্থানীয়ভাবে চামড়া সংগ্রহ ও পর্যাপ্ত লবণ দিয়ে সংরক্ষণের জন্য বিদ্যমান আড়তসহ প্রয়োজনে অস্থায়ী সংরক্ষণাগার স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিসিকের লেদার সেলের উপ পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, ঢাকার বাইরে এসব বিষয়ে সার্বিকভাবে মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকবে জেলা প্রশাসক। এবিষয়ে বিসিকের কর্মকর্তারা ডিসিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।
সার্বিক মনিটরিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
মিজানুর রহমান আরও জানান, চামড়া ব্যবস্থাপনার সার্বিক কার্যক্রম—লবণ সরবরাহ, সংগ্রহ, মূল্য নির্ধারণ, পরিবহন ও সংরক্ষণ—মনিটরিংয়ের জন্য শিল্প, বাণিজ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং জননিরাপত্তা বিভাগের সমন্বয়ে একটি যৌথ টিম গঠন করা হবে।
এছাড়া বিসিকে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। অবৈধ পশু প্রবেশ, চামড়া পাচার, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং গুজব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর সার্বিক নিরাপত্তায় শিল্পাঞ্চল পুলিশ মোতায়েনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের খামার শাখার উপ পরিচালক মো. শরিফুল হক বাসসকে বলেন, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কোরবানির গবাদি পশুর চামড়া ছড়ানো ও সংরক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে সারাদেশে ৮টি বিভাগে মোট ১৫ হাজার ৪৪৪ জন পেশাদার এবং ২২ হাজার ৯১৮ জন অপেশাদার কসাইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এর বাইরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোরবানির পশুর চামড়া ছড়ানো ও সংরক্ষণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৬৬৩টি সভা এবং ২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪টির মতো লিফলেট/পোস্টার বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া নিরাপদ মাংস উৎপাদনের জন্য ৮ বিভাগে ৬৭ হাজার ৩৬৬ টি গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টকরণ খামার পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।