ঢাকা, ৯ জুন:
বাংলাদেশ ও জার্মানি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন জার্মান ফেডারেল পররাষ্ট্র দপ্তরের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হারমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে। তারা উল্লেখ করেন, এই সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই পারস্পরিক সুবিধা বয়ে এনেছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।
আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
ফ্রাঙ্ক হারমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
উভয় পক্ষ সম্পর্কের গতি আরও বাড়াতে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সংলাপ এবং উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করে।
এ সময় জার্মান কর্মকর্তা ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-এর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত মনোযোগ ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের গুরুত্বও আলোচিত হয়। উভয় পক্ষ মনে করে, এ ধরনের চুক্তি বৃহত্তর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আলোচনায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ও স্থান পায়। উভয় দেশ শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।
এর আগে জার্মান প্রতিনিধি ফ্রাঙ্ক হারমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।