দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭.৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ হয়েছে ৩৩.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহি পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ২ জুলাই পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭.৬৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩৩.০১ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চার দিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ প্রায় ১৯ কোটি ডলার এবং বিপিএম৬ রিজার্ভ প্রায় ১৮ কোটি ডলার বেড়েছে।
.
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এবং রপ্তানি আয়ের উন্নতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এই বৃদ্ধি এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় ডলারের সরবরাহও শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ দিনে দেশে ৫৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮.১ শতাংশ বেশি। এই শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে রিজার্ভের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে আইএমএফের নির্দেশনা অনুযায়ী বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ প্রকাশ করছে, যা দেশের ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত অবস্থার একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে গ্রস রিজার্ভও প্রকাশ করা হয়, যাতে মোট বৈদেশিক সম্পদের সামগ্রিক অবস্থান প্রতিফলিত হয়।