নিজস্ব প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি |
দীর্ঘ আইনি লড়াই, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীর। হাইকোর্ট তাঁর প্রার্থিতা ও নির্বাচনের ফলাফল বৈধ ঘোষণা করার পর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সব আইনি জটিলতার অবসান ঘটে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ ধারা অনুযায়ী সারোয়ার আলমগীরকে শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে সংসদ সচিবের কক্ষে গিয়ে তিনি শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
শপথ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, অন্যান্য হুইপ, সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে একই দিন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। গত ২ জুলাই উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ দিনের জন্য রায় ঘোষণা নির্ধারণ করেছিলেন।
আদালতে সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির এবং আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলের শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে।
পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সারোয়ার আলমগীর। হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল গ্রহণ করলেও সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখেন। তবে আদালত নির্দেশ দেন, ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ স্থগিত থাকবে।
নির্বাচনে সারোয়ার আলমগীর বিজয়ী হলেও আদালতের ওই নির্দেশনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ আটকে ছিল। এতে ফটিকছড়ি আসনের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধি পেয়েও কার্যত সংসদে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
পরবর্তীতে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দ্রুত রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলে মামলার শুনানি শেষ হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ও নির্বাচনের ফলাফল বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর পরপরই নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসানের মধ্য দিয়ে সারোয়ার আলমগীরের সংসদে যাওয়ার পথ পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ফটিকছড়িবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশারও বাস্তবায়ন ঘটেছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আশা, এখন থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সারোয়ার আলমগীর এলাকার উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।