দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ঢাকা জেলা জামায়াত আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেন অন্যদের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা না করে নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজে মনোযোগ দেন। তিনি সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে পারেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যার যার দায়িত্ব, তাকে তা পালন করতে দেওয়া উচিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের প্রয়োজন নেই; তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন, আপনি আপনার মন্ত্রণালয়ের দিকে মনোযোগ দিন। জাতিকে শান্তিতে থাকতে দিন।’
দেশে ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। সম্প্রতি এক সাবেক হুইপের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চাঁদাবাজিকে যেন স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একজন সাবেক হুইপকে বলতে শুনেছি, পৃথিবীর যেখান থেকেই কেউ আসুক না কেন, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে চাঁদাবাজিকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা আল্লাহই ভালো জানেন।’
চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছা থাকলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব। আর সেই সদিচ্ছা না থাকলে কোনোভাবেই এ সমস্যা দূর হবে না।’
আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচিত হচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামী কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দেশের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। একইভাবে অন্য কোনো দেশও যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে।’
সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের শান্তি বিঘ্নিত হলে আপনারাও শান্তিতে থাকতে পারবেন না।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।