বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া এলাকার ঘোড়াউত্রা নদী থেকে রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৯ জনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ সময় অবৈধ কাজে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয় রবিবার (২ আগস্ট ২০২৬) রাত প্রায় ৮টার দিকে অভিযান পরিচালনা করেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পাটুলি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে দ্বীনি ইসলাম (৩৪), কুকরাই গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে তোফাজ্জল (২৫), পাটুলি গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে আপন মিয়া (২৮), পাটুলি গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে মনসুর আলী (৩০), কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আব্দুল বারেকের ছেলে সোহেল (২৬), একই উপজেলার হাফিজুল্লাহর ছেলে সোহাগ মিয়া, বাগেরহাটের গজালিয়া এলাকার আতিয়ার রহমানের ছেলে আমিনুল হক, নিকলী উপজেলার দামপাড়া গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে নাসির উদ্দিন (৪২) সহ মোট ৯ জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বাজিতপুর পৌরসভাসহ দিলালপুর, বলিয়াদী, কৈলাগ ও দিঘীরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বালু এনে নিচু এলাকা ভরাট করা হচ্ছে। এসব বালুর বড় একটি অংশ ঘোরাউত্রা নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজারের পাইপলাইন অপসারণ ও ভেঙে দিচ্ছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় প্রশাসনের অভিযান শেষে রাতের আঁধারে আবারও বালু উত্তোলন আনলোট শুরু হয়। অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দিন বলেন, “নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবৈধ বালু উত্তোলন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যারা নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
প্রশাসন জানায়, দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত) এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বলেন, “বাজিতপুরে রাজনৈতিকভাবে নানা বিভাজন থাকলেও অবৈধ বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য দেখা যায়। ফলে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের পরও এই অপতৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।” প্রশাসন জানিয়েছে, নদী, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন এবং অবৈধভাবে বালু ভরাটের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।