বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটি দীর্ঘদিন ধরে না থাকায় দেশের ৮৪টি সাংগঠনিক জেলায় দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির নেতৃত্বপ্রত্যাশী এক তৃণমূল নেতা।
সম্প্রতি মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আগ্রহের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নেতাকর্মীরা তাকে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এ জন্য তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “পদ-পদবী দায়িত্ব পালনের একটি ক্ষেত্র হতে পারে, কিন্তু দেশসেবার একমাত্র পথ নয়। সত্যিকার অর্থে কাজ করার সদিচ্ছা, সাহস ও দায়বদ্ধতা থাকলে পদ-পদবির বাইরেও নেতাকর্মী, সমাজ, মানবতা, দেশ ও জনগণের জন্য অনেক কিছু করা সম্ভব।”
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, গত ৪২ বছরে তৃণমূল থেকে উঠে এসে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন। এসব অভিজ্ঞতাকে তিনি দলের প্রতি তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলকে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে মৎস্যজীবীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টি সংগঠনকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
মৎস্যজীবী দলের সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের প্রয়োজন, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, তার হাতেই দায়িত্ব তুলে দেবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এ ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের প্রতি তার দৃঢ় আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিজেকে সভাপতি পদে আলোচনায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মৎস্যজীবী দলের তথা দলের প্রয়োজন, বিবেচনা ও আমার ওপর তাঁর আস্থার ভিত্তিতে যখন যেখানে উপযুক্ত মনে করবেন, আমাকে দায়িত্ব দেবেন—তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমিও সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও সবসময় প্রস্তুত।
দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাজপথ কখনো বেইমানি করে না।” এ সময় বিএনপি মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক পথচলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে উঠে এসে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি আজ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পথে রয়েছেন।
সবশেষে তিনি বলেন, “পদ সাময়িক—দেশের প্রতি, দলের প্রতি এবং তৃণমূলের নেতাকর্মী ও মাওলানা ভাসানী-যাদু মিঞার অনুসারীদের প্রতি দায়বদ্ধতা চিরস্থায়ী।” নেতাকর্মীদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসাকে আগামী দিনের পথচলার পাথেয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার মঙ্গল কামনা করেন।