অভিযোগকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষের শিক্ষা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি এবং এলাকার শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ, অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি জনাব মনিরুজ্জামান মনির অল্প সময়ের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সামনে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে অভিযোগকারীরা বলেন, স্বল্প সময়ের দায়িত্ব পেয়েও তিনি অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন, যা প্রশংসনীয়।
একজন সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বলেন, “আমরা যখন এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছি, তখন প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভরতা ছিল না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়েছে, যেখানে প্রাইভেট বা কোচিং না করলে শিক্ষার্থীদের নম্বর কম দেওয়া হবে বা বিভিন্নভাবে সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে—এমন ধারণা অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত।
সচেতন মহলের দাবি, আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণসহ সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের প্রতিষ্ঠান থেকে অপসারণের পাশাপাশি প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, মরহুম আলহাজ্ব জহুরুল ইসলাম সাহেব যে স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন, সেই আদর্শ ও উদ্দেশ্য ফিরিয়ে এনে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্তমান কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
4 পর্ব আসিতেছে