উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির কমিটি ভেঙে নতুন করে পুনর্গঠন করার পর দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, নতুন কমিটি গঠনের পর অন্তত ছয় মাস স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন লবিং গ্রুপ ও অভ্যন্তরীণ বলয় কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকে। আর এই সময়টিকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে দেখছেন অনেকে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের গ্রুপিং, ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে অনেক এলাকায় জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতারা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। ফলে দলীয় প্রভাব কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বলয়ের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীরাই অনেক সময় সামনে চলে আসেন। কিন্তু উপজেলা কমিটি পুনর্গঠনের পরপরই নির্বাচন হলে পুরোনো সমীকরণ ভেঙে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে দলীয় কোন্দল তুলনামূলক কম থাকা সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তৃণমূলের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মূল্যায়নের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তাদের দাবি, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত লবিং বা গ্রুপিংয়ের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়া হলে দল আরও শক্তিশালী হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দিতে পারলে তা একদিকে যেমন দলীয় ঐক্য বাড়াতে পারে, অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তিও আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তবে নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণ, দলীয় সিদ্ধান্ত, প্রার্থী মনোনয়ন এবং নির্বাচনী পরিবেশ—সবকিছুই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দলের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
তৃণমূলের প্রত্যাশা, সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় গ্রুপিংয়ের পরিবর্তে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আর সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে উপজেলা কমিটি পুনর্গঠনের পর সৃষ্ট নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ বিএনপির জন্য স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে উঠতে পারে।