নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানা (৩৩৫ মহিলা আসন-৩৫)-এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চলমান আরও সাতটি কূপের খনন শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে এবং অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ডিসেম্বর ২০২৮ সালের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে আরও এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত এসব টার্মিনাল স্থাপন করা হলে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।