তবে বিরোধিতার নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা কিংবা জনজীবনকে দুর্ভোগের মধ্যে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর প্রতিও আহ্বান—বিরোধিতা করুন, তবে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে নয়; সমালোচনা করুন, তবে সমাধানের বিকল্প প্রস্তাবও দিন।
রাজপথে কর্মসূচি দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার। সংসদে সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং জনগণের সমস্যা তুলে ধরাও বিরোধী দলের দায়িত্ব। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যদি অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, তাহলে তার দায় শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।
বর্তমান সময়ে দেশের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ, সংসদীয় বিতর্ক এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খোঁজা জরুরি।
সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা এবং ভুলের ক্ষেত্রে কঠোর কিন্তু গঠনমূলক সমালোচনা—এটাই হতে পারে দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয়।
বিরোধী দলের প্রতি তাই স্পষ্ট আহ্বান—জনগণের দাবি নিয়ে মাঠে থাকুন, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন, কিন্তু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করবেন না। দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাজনীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, জনগণের কল্যাণ ও দেশের অগ্রগতি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে সহযোগিতা, সংলাপ ও গঠনমূলক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পথে এগিয়ে যাওয়াই সময়ের দাবি।