চা, মৎস্য ও জ্বালানিসহ সম্ভাবনাময় খাত কাজে লাগানোর তাগিদ
সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্পসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্প খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান, বন ও হাওর—সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। এসব খাতকে আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রবাসে থাকা যোগ্য ও সক্ষম ব্যক্তিরা এসব খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এলে সিলেটের পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি, কৃষি, শিল্প, চা শিল্প, পর্যটন ও গ্যাসসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলো কাজে লাগাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
চা শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের চা-বাগান শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ফলে এ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সিলেটের হাওরাঞ্চলে মৎস্য চাষের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাওরগুলোতে মাছ চাষের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এখানকার খনিজ সম্পদ কাজে লাগিয়ে বড় শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি কয়েক দিন আগে সিলেটে এসেছিলেন এবং এখান থেকে চা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সিলেট থেকে চা রপ্তানির বিষয়টি সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিলেটের প্রবাসী সমাজের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসীরা শুধু সিলেটের অর্থনীতিতে নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য আবাসস্থল নির্মাণই এখন প্রধান লক্ষ্য। দেশের অভিন্ন বিষয়গুলোতে ঐকমত্য গড়ে তুলে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এ দেশে একসঙ্গে বসবাস করেন। বাংলাদেশের অন্যতম সৌন্দর্য হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
সিলেটবাসীর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের সঙ্গে তিনি সবসময় ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গাউছ, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।