• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন
Headline
নাসিরউদ্দীনের বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ এনসিপির চাঁদাবাজদের দখলে পতেঙ্গা সৈকত অব্যবস্থাপনায় মুখ থুবড়ে পর্যটন সম্ভাবনা, রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা “রংপুরে দুই তরুণ গ্রেপ্তার, রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তা ও জ্বালানিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিপিআর-এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি : সুলতান সালাউদ্দিন টুকু পিপিএম সেবা পদক পেলেন এসআই মনজুর রহমান লোহাগাড়ায় অসহায়দের পাশে শাহজাহান চৌধুরী ঢেউটিন বিতরণ, জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার-শনিবার ব্যাংকের শাখা খোলা রাখার অনুরোধ

চাঁদাবাজদের দখলে পতেঙ্গা সৈকত অব্যবস্থাপনায় মুখ থুবড়ে পর্যটন সম্ভাবনা, রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার

মোঃ রিয়াজ উদ্দিন চট্টগ্রাম / ২০ Time View
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৈকতজুড়ে অবৈধ দোকান ও দখলের অভিযোগ, নেই পর্যাপ্ত আলো-নিরাপত্তা; পর্যটক হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

রিয়াজ ,চট্টগ্রাম

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, সমুদ্রের নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং নগরীর কাছাকাছি হওয়ায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এ সৈকতের। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত দোকানপাট, দখল, অপর্যাপ্ত পর্যটন সুবিধা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, নিরাপত্তা ঘাটতি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সৈকত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা থাকলেও বাস্তবে পর্যটকদের অভিযোগের বড় অংশই ঘুরেফিরে একই জায়গায়—সৈকতের প্রবেশপথ ও সমুদ্রের পাড়জুড়ে অপরিকল্পিত দোকান, সংকুচিত হাঁটার পথ, অপর্যাপ্ত আলো, দুর্বল নিরাপত্তা, মানহীন খাবার এবং বিভিন্ন সেবা নিতে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ।

সাম্প্রতিক সরেজমিন চিত্রেও সৈকতের বিভিন্ন অংশে দোকানপাট, চেয়ার-টেবিল ও ছাতার কারণে পর্যটকদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। এ নিয়ে অতীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত দোকান ও দৈনিক ভিত্তিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগের কথা এসেছে।

সৈকতজুড়ে দোকানের সারি

সরেজমিন দেখা গেছে, মূল সড়ক থেকে সমুদ্রের দিকে তাকালেই চোখে পড়ে সারি সারি দোকান। বাঁশ, টিন ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি এসব দোকান কয়েক স্তরে বিস্তৃত হয়েছে। কোথাও কোথাও সিডিএ নির্মিত রেলিংয়ের পাশেও চেয়ার-টেবিল ও বড় ছাতা বসানো হয়েছে।

একসময় মূল সড়ক থেকেই দূরে বিস্তৃত সমুদ্রের দৃশ্য দেখা গেলেও বর্তমানে দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনার কারণে সেই দৃশ্য অনেকটাই আড়াল হয়ে যায়। সমুদ্রের পাড়ে যেতে পর্যটকদের ব্যবহার করতে হয় দোকানের মাঝ দিয়ে সরু পথ। পাড়ে পৌঁছেও স্বস্তিতে দাঁড়ানোর সুযোগ কম।

সৈকতের হাঁটার পথ, বসার স্থান এমনকি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছপালার জায়গার আশপাশেও বিভিন্ন স্থাপনা ও চেয়ার-টেবিল বসানোর অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সৈকতের উন্মুক্ত পরিবেশ ও নান্দনিকতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ পর্যটকদের।

সৈকতের বিভিন্ন অংশে মোটরসাইকেল চলাচল ও রেসিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি খাবারের দোকানের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ফটোগ্রাফার, বিচ বাইক, স্পিডবোট ও বিভিন্ন রাইডের মূল্য নিয়ে দরকষাকষি এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও করছেন দর্শনার্থীরা।

আলো নেই, অকেজো সিসিটিভি

পতেঙ্গা সৈকত থেকে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। সিডিএর রেলিংয়ের পাশে বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত বাতি নেই বলে অভিযোগ পর্যটকদের।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পতেঙ্গা জোনের কর্মকর্তারাও সৈকতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৈকত এলাকার সিসিটিভিগুলো অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।

ফলে সন্ধ্যার পর নারী, শিশু ও পরিবার নিয়ে আসা পর্যটকদের একটি অংশ নিরাপত্তার কারণে সৈকতে অবস্থান করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন।

দোকানে আলো, পর্যটকের এলাকায় অন্ধকার!

পর্যটকদের অভিযোগের পাশাপাশি সৈকতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকলেও সৈকতের বিভিন্ন দোকানে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অবৈধ সংযোগের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বৈধ-অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁদাবাজির অভিযোগ

সৈকতের দোকানিদের কাছ থেকে দৈনিক বা মাসিক ভিত্তিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, বিভিন্ন দোকান, ফটোগ্রাফি, বিচ বাইক, আইসক্রিম ও অন্যান্য সেবা থেকে বিভিন্ন নামে অর্থ নেওয়া হয়।

তবে কারা এই অর্থ আদায় করছে, অর্থের পরিমাণ কত এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের তদন্ত প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়েও পতেঙ্গা এলাকায় অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে অভিযান চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে। জুন মাসে পতেঙ্গা আউটার রিং রোডের পশ্চিম পাশে রানি রাসমণি ঘাট এলাকায় সিটি করপোরেশনের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।

রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ

সৈকতের দোকান বাণিজ্য ও চাঁদা আদায়ের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একটি অংশের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। তবে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের কয়েকজন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

৪১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দোকান বাণিজ্য বা চাঁদাবাজির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তবে সৈকতের পার্কিং ও দোকান বসানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

কৃষক দলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে প্রশাসনিক ও আইনগত তদন্ত প্রয়োজন।

প্রশাসনের দোকানও প্রশ্নের মুখে

অনুসন্ধানে সৈকতে জেলা প্রশাসনের নামে ৫১টি দোকান, ডিসি বন্দর জোনের একটি দোকান এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দোকান থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৈকতের সৌন্দর্য ও উন্মুক্ত পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কোন দোকান বৈধ, কোনটি অনুমোদনহীন এবং কোন সংস্থার কী অনুমোদন রয়েছে—এ বিষয়ে প্রকাশ্য তালিকা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা জরুরি।

ঘাটগুলোতেও নিরাপত্তা সংকট

সন্ধ্যার পর পতেঙ্গার বিভিন্ন ঘাট ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর অভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। চরপাড়া ঘাট, মুসলিমাবাদ গঙ্গা ঘাট, আকমল আলী রোড ও হালিশহর আনন্দবাজার ঘাটসহ আশপাশের কিছু এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং ও জুয়ার মতো অপরাধের অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগের পাশাপাশি উপকূলীয় ঘাটগুলো মাদক ও চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। তবে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের সত্যতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আবাসিক হোটেল ঘিরেও অভিযোগ

ইপিজেড থেকে পতেঙ্গা সৈকতসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন আবাসিক হোটেল নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি হোটেলে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মাদক ও জুয়ার আসর বসার অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিয়মিত অভিযান, লাইসেন্স যাচাই এবং হোটেলগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

পর্যটকদের অভিজ্ঞতা

পতেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম সাগর বলেন, সৈকতে পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে দোকানিদের কাছে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করে তিনি বলেন, খাবারের দোকানে মূল্যতালিকা নেই, মানহীন খাবারের বিরুদ্ধে যথেষ্ট নজরদারি নেই এবং অবৈধ দোকানের কারণে সৈকতের জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে।

নাটোরের সিংড়া থেকে ৪০ জনের একটি দল নিয়ে কক্সবাজার ও বান্দরবান ঘুরে পতেঙ্গা সৈকতে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, পতেঙ্গা আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হলেও ভালো মানের খাবার, গণশৌচাগার, মোটরসাইকেল রাইড ও ছবি তোলার সেবা নিয়ে ভোগান্তি রয়েছে। বিষয়গুলোতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

নাগরিক সমাজের দাবি

পতেঙ্গা নাগরিক অধিকার ফোরামের সভাপতি হাজী মুজিবুল হক বলেন, পতেঙ্গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও সিডিএ সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিলে এখানকার চিত্র বদলে যেতে পারে।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারও বিপুল রাজস্ব পেতে পারে।

পুলিশের বক্তব্য

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পারভেজ আলী বলেন, পতেঙ্গা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসৈকত। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা পুলিশের টহল দল কাজ করছে। বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এলাকাটি স্পর্শকাতর এবং এসব স্থাপনার নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ নজর রয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পতেঙ্গা জোনের ওসি হাসান ইমাম বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, তথ্যসেবা, জরুরি সহায়তা এবং হারিয়ে যাওয়া শিশুদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের হয়রানি বা প্রতারণার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সৈকতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৈকতের সিসিটিভিগুলো অকেজো রয়েছে। পার্কিং এলাকায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

সিডিএর পরিকল্পনা

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন বলেন, কর্ণফুলীর তীর ও পতেঙ্গা এলাকার সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামবাসীর জন্য নান্দনিক পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হকার ও দোকানগুলোর কারণে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মতো পতেঙ্গাকে গড়ে তুলতে সৈকত এলাকা পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকৃত বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলে এখান থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিডিএর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সৈকতের অতিরিক্ত দোকান সরিয়ে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মেয়রের বক্তব্য

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পতেঙ্গা দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হলেও এর ব্যবস্থাপনা মূলত জেলা প্রশাসন ও সিডিএর আওতাধীন। পার্কিং ও দোকানপাটের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব রয়েছে।

ঘাটগুলোর রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে তিনি জানান, কিছু ঘাট টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয় এবং কিছু ঘাটে খাস আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রশাসনের আশ্বাস

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক শরীফ উদ্দিন বলেন, খুব শিগগিরই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হবে। সৈকতের রক্ষণাবেক্ষণে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সৈকতের কয়েকটি দোকান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে আগস্টে জেলা প্রশাসন পতেঙ্গা সৈকতকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে আধুনিক ডাস্টবিন ও ওয়াশ ব্লক স্থাপন এবং দোকানের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে।

যে কারণে পিছিয়ে পতেঙ্গা

দখল ও অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ | অপরিকল্পিত দোকানপাট | পর্যাপ্ত আলো ও সিসিটিভির ঘাটতি | নিরাপত্তা ও তদারকির অভাব | বর্জ্য ও স্যানিটেশন সমস্যা | শিশু ও পরিবারবান্ধব পরিবেশের ঘাটতি | অবৈধ পার্কিং | পর্যটক হয়রানির অভিযোগ | পরিকল্পিত গ্রিন জোনের অভাব | আধুনিক ওয়াটার স্পোর্টস ও বিনোদন সুবিধার ঘাটতি | সমন্বিত ব্যবস্থাপনার অভাব

পতেঙ্গার সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় নাগরিক, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের বক্তব্য প্রায় অভিন্ন—প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটকের অভাব নেই; প্রয়োজন পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সৈকতকে উন্মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখা, দোকানপাটের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ, অবৈধ দখল ও অর্থ আদায়ের অভিযোগের তদন্ত, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, কার্যকর সিসিটিভি, গণশৌচাগার, নিরাপদ পার্কিং, খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক পর্যটনসেবা নিশ্চিত করা গেলে পতেঙ্গার পর্যটন সম্ভাবনা অনেকটাই কাজে লাগানো সম্ভব।

প্রশ্ন এখন একটাই—সমুদ্র আছে, পর্যটক আছে, সম্ভাবনাও আছে; তবে পতেঙ্গাকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দিতে সমন্বিত উদ্যোগ কবে?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category