ভোটার তালিকা ব্যাপক সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ভারতের বিরোধী দলগুলো। ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ দাবিতে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে মিছিল এবং পরবর্তী দিনগুলোতে দেশজুড়ে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের অভিভাবক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচিত ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনীতিকরা অভিযোগ করেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন।
নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়. নির্বাচন কমিশন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের সব সিদ্ধান্ত আইনসম্মত। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘মূল বিষয় হলো ভোট চুরি।’
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যারা ভারতের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব।’
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে মিছিল করবেন। এরপর দেশজুড়ে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতীয় দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে জানায়, বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুজনের অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
নির্বাচন কমিশন বলেছে, ওই প্রতিবেদনে ‘বিষয়টির কেবল একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে’।
কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকার সংশোধনের উদ্দেশ্য ছিল একই ব্যক্তির একাধিক নামের নিবন্ধন বাদ দেওয়া এবং ‘বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের’ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকানো।
মোদির দল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসা নথিবিহীন অভিবাসীরা প্রতারণার মাধ্যমে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। এসব অভিবাসীর অনেকেই মুসলিম।