বিশেষ প্রতিনিধি | নোয়াখালী
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত নবীনবরণ ও ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রতিনিধি নাহিদ ইসলাম। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এখনো ঘুমিয়ে পড়েনি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ঘুমিয়ে পড়েনি—আপনাদের সেটার প্রমাণ দিতে হবে।” আঞ্চলিক দাবির ঊর্ধ্বে উঠে বৃহৎ পরিসরে চিন্তা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা শুধু ‘নোয়াখালী বিভাগ চাই’ বলে আন্দোলন করবেন না। আপনারা পুরো দেশ নিয়ে ভাববেন, পুরো বিশ্ব নিয়ে ভাববেন—এর নামই বিশ্ববিদ্যালয়।”
আগামী ডিসেম্বর মাসে কারও দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আগামী ডিসেম্বর মাসে নাকি কেউ দেশে আসতে চাচ্ছেন, আপনারা কি জানেন? আমরা কি প্রস্তুত আছি? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে প্রস্তুত ছিলাম, এবার কি আছি? এবার প্রতিরোধ আগের চেয়ে বেশি হবে, না কম হবে?”
শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ডিসেম্বর মাস আমাদের বিজয়ের মাস। ৭১-এ আমরা বিজয় লাভ করেছি, ২৪-এও বিজয় লাভ করেছি, ২৬-এও করবো ইনশাল্লাহ। আগামীর সব ডিসেম্বরেই ছাত্র-জনতা বিজয় লাভ করবে। কোনো ডিসেম্বরেই ‘আপা’র দেশে আসার সুযোগ নেই। এলেও তার জন্য ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত আছে।”
আইন ও বিচারের ধীরগতি এবং শহিদদের বিচার না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি, আমরা ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। আমরা ওসমান হাদীর ভাষায় বলেছিলাম—শত্রুর প্রতিও আমরা ইনসাফ করব, ন্যায়বিচার করব। কিন্তু গত দুই বছরে আমরা কোনো বিচার পাইনি। ওসমান হাদী হত্যার বিচার পাইনি, জুলাইয়ের শহিদ ভাই-বোনদের হত্যার বিচার পাইনি।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “জনগণ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখন তারা নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করে।”