নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীতে হঠাৎ করেই গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীর মিরপুর ও মহাখালী এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার রাত ১০টার দিকে মিরপুরের পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাসটি মাত্র ট্রিপ শেষ করে যাত্রীশূন্য অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল। বাসের ভেতরে কর্মীরা যখন ট্রিপের টাকা গুনছিলেন, ঠিক তখনই মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা বাসের জানালা দিয়ে পেছনের অংশে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়।
বাসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজনের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়। ফলে বাসটির শেষ দিকের দুটি আসনের ওপরের অংশ আংশিক পোড়া ছাড়া বড় কোনো ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে।
আবার একই রাতে
মিরপুরের ঘটনার কিছু পরেই দিবাগত রাত ১২টা ৫৭ মিনিটের দিকে মহাখালী টার্মিনালে পার্কিং করে রাখা সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে। শনিবার রাতের মধ্যে বাসে আগুন দেওয়ার এটি ছিল দ্বিতীয় ঘটনা।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা শাহজাহান হোসাইন জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই তেজগাঁও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বাসে কীভাবে আগুন লেগেছে, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে চলন্ত বা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে:
শুক্রবার (৬ নভেম্বর): বারিধারা এলাকায় প্রগতি সরণিতে বৈশাখী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর): রাজধানীর রায়েরবাজারে কৃষি মার্কেটের সামনে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে গাড়িটির চালক আহত হন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীজুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
