• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
Headline
আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘পোশাকশিল্পে সাময়িক অস্থিরতায় বিনিয়োগে প্রভাব পড়বে না’: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী রাজধানীতে এক রাতেই জোড়া বাসে আগুন: মিরপুরে বিহঙ্গ ও মহাখালীতে সোহাগ পরিবহনে অগ্নিসংযোগ ২১ বছর পর রাজপথের শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ লাখো নেতাকর্মীর ঢল ফ্রাঙ্কফুর্টে ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহপুত্রের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ গ্রহণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা ‘জিয়াউর রহমান দায়িত্ব না নিলে স্বাধীনতা অন্যের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল’: বেলাবোতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন: রুহুল কবির রিজভী ‘কোনো ডিসেম্বরেই দেশে আসার সুযোগ নেই, এলেও ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত’: নোবিপ্রবিতে নাহিদ ইসলাম নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন জিয়ার ছবি ছাড়া ব্যানার, পরে ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন: জয়পুরহাটে তুলকালাম

জিয়ার ছবি ছাড়া ব্যানার, পরে ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন: জয়পুরহাটে তুলকালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক (জয়পুরহাট) / ৪৩ Time View
Update : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক (জয়পুরহাট):

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। পরে ব্যানারে কসটেপ দিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি সংযুক্ত করে অনুষ্ঠান শুরু করা হলেও এক বক্তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

দুই দফা হট্টগোলের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে অনুষ্ঠানের মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ কারণে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মঞ্চে না ওঠায় নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পরে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে মূল ব্যানার নামিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে ব্যানারে সংযুক্ত করেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর আলোচনা সভা শুরু হয়।

এদিকে সভা চলাকালে জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান তাঁর বক্তব্যে একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করেন। এতে সভাস্থলে উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি একেএম গোলাম মাহফুজ শুভ ইসলাম উত্তেজিত হয়ে ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান। পরে ওই বক্তাকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় জেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানান।

ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া বলেন, ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে ব্যানারটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে এ ধরনের ত্রুটির জন্য তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

অন্যদিকে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। পুরো বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এ ঘটনায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হচ্ছে। অথচ শহীদ জিয়াউর রহমানের ছবি ছাড়া ব্যানার তৈরি করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁদের মতে, প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেনসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category