করা লিভারে প্রাণ ফিরে পেয়েছে তারই পুত্র। এ ঘটনা ঘটেছে ভারতে। হাসপাতালের করিডরে যখন স্তব্ধতা বিরাজ করছে, সবকিছু নিশ্চুপ এমন সময়ে ডাক্তারকে একজন বললেন, আমাকে টেস্ট করুন, আমি তাকে লিভারের অংশ দিবো। ব্যক্তিটি ছিলেন রেণু খান্না। ৩৭ বছর বয়সী এই ভদ্র মহিলা শঙ্কা ও দৃপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। তার ১৭ বছর বয়সী হাই স্কুলগামী ছেলে আরমান লিভার পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জীবনের শেষ মুহূর্ত গুনছিলেন। লিভার নষ্ট হলে খুব কম সময়ই পাওয়া যায়। তার পরিবার এক সপ্তাহও পায় না চিন্তা করার জন্য। ডাক্তারও জানিয়ে দিয়েছিলো তাদের হাতে আর এক থেকে ২ দিন আছে। এ অবস্থায় এগিয়ে আসেন রেণু। আরমানের অবস্থা দ্রুত অবনতি হচ্ছিলো। ১৭ বছর বয়সে লিভার অকার্যকর হওয়া স্বাভাবিক কোন ঘটনা নয়। নাভি মুম্বইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে বসে ছিলেন আরমান। তার মা সিদ্ধান্ত নেন এভাবে সন্তানকে হারাতে দিবেন না তিনি। লিভার অকৃতকার্য হলে পরিপাকে মারাত্বক সমস্যা দেখা দেয়।
এক্ষেত্রে একটি উপায়ই খোলা থাকে রোগীকে বাঁচানোর। লিভার প্রতিস্থাপন করা। ভারতে মরণোত্তর দেহদানের পরিমাণ খুবই কম। তাই জীবিত কারো থেকেই নিতে হতো লিভার। ছেলের এই অবস্থায় কোন কালক্ষেপণ না করেই এগিয়ে আসেন মা। ২৪ ঘন্টার ভেতর তাকে পরীক্ষা করা হয়, রক্তের গ্রুপ, লিভারের পরিমাণ, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য সহ সবকিছু।
নাভি মুম্বই অ্যাপোলো হাসপাতালের ডাক্তাররা লিভার প্রতিস্থাপন করার বোর্ড গঠন করেন ডা. গুরুপ্রসাদ শেঠির নেতৃত্বে। নিঁখুত সার্জারিতে তারা আরমানের লিভার কেটে ফেলে তার মায়ের কাছ থেকে কেটে আনা অংশ দিয়ে প্রতিস্থাপন করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। লিভার মানব শরীরের একমাত্র অঙ্গ যা পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে। মা এবং ছেলে উভয়ই এক মাসের ভেতর সুস্থ হয়ে যান। দু’জনের লিভার পুনরায় কাজ করতে শুরু করে স্বাভবিকভাবে। রুণু নিজেকে সাহসী মা বলে দাবি করেন না। তিনি ভয় পেয়েছিলেন, তবে এই ভয় তার সন্তানের জীবন বাঁচানো থেকে আটকে রাখতে পারেনি। রুণু সফলভাবে অস্ত্রপচার সম্পন্ন করায় ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।সংবাদ বুলেটিন
তিনি বলেন, অ্যাপোলো হাসপাতালের ডাক্তাররা কোন কিছু করা বাকি রাখেনি আমার সন্তানকে বাঁচাতে। আমার ছেলে বেঁচে আছে এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়।