প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে শত্রুতা শুরুর পর থেকে মার্কিন বিমানবাহিনী প্রায় ১৩ হাজার উড্ডয়ন (সর্টি) পরিচালনা করলেও বিমান হারানোর হার ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৯টি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১০টি বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান, এবং একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান, যা ইরানের আকাশসীমার ভেতরে আঘাতপ্রাপ্ত হয় বলে দাবি করা হয়।
আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জে হার্স্ট তাৎক্ষণিক কোনো সংখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, বহরের পুনরুদ্ধার ব্যয় সম্পর্কে কোনো পূর্বানুমানের আগে ‘পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা’ প্রয়োজন। সোর্স: The Cradle
মাত্র ৪০ দিনের যুদ্ধে দীর্ঘদিনের স্যাংশনে থাকা একটা দেশ ইরানের সাথে যুদ্ধে ৩৯ টা বিমান পুর্ণ ধ্বংস হওয়া, আরো ১০ টি বিমান বড় ধরণের ক্ষতির শিকার হওয়া আমেরিকার জন্যে এক লজ্জাজনক পরাজয়। মার্কিন সংসদ সদস্য স্বীকার করে নেয়ায়, CENTCOM এর আর ডিনাই করার খুব বেশি একটা সুযোগ নেই।
এতে এটাও স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরানি ড্রোন আমেরিকান বিমানকে ঘাঁটিতে গ্রাউন্ডেড থাকা অবস্থায় পিন পয়েন্ট অ্যাকুরেসির সাথে ধ্বংস করলে ও, ইরানি এয়ারডিফেন্স সিস্টেম ও যুদ্ধে বেশ অ্যাক্টিভ ছিল। IRGC তাদের নিজেস্ব যেই এয়ারডিফেন্সের কথা উল্লেখ্য করেছে, এটা বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।
আর আমেরিকার যুদ্ধে এই লজ্জাজনক হারের কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে এমন কোন ডিল করে ফেলতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্যে খারাপ চুক্তি।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সিএনএন-কে জানিয়েছে, ইসরায়েল উদ্বিগ্ন যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি “খারাপ চুক্তি” করতে পারেন, এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এই খবরটা দ্যা জেরুজালেম পোস্ট ও CNN-কে কোট করে প্রকাশ করেছে।
শুধু যে এয়ারক্রাফট হারানোর লজ্জায় ট্রাম্প কোন ব্যাড ডিল করবে এমনটা না, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন হিউজ প্রেশারে আছে সারা বিশ্ব থেকে। আবারো যুদ্ধ শুরু করে আরো লজ্জাজনকভাবে হারতে চায় না, এটার প্রেশারে ও আছে।
ট্রাম্প প্রতিদিনই বলে ইরানের 69 জাহাজ তারা সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছে, এদিকে নিজেরাই 39 এয়ারক্রাফট হারিয়ে বসে আছে।