দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুণগত মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই সরকার ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পরিবর্তন করেছে।
এক ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, এই পরিবর্তনের ফলে একটি ছাত্রসংগঠন অস্বস্তিতে পড়েছে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অপপ্রচার ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন উপাচার্যের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং তাদের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
নাসির আরও দাবি করেন, নবনিযুক্ত উপাচার্যদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়ার চেষ্টাও দেখা যাচ্ছে।
তিনি বিশেষভাবে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী-কে ঘিরে চলমান সমালোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিরোধিতার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রক্রিয়া। তবে একটি গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাবের বাইরে প্রশাসনিক নিয়োগ মেনে নিতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডুয়েটে নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদানকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার সমালোচনা করে নাসির বলেন, ক্যাম্পাসে বিভ্রান্তি, গুজব ও সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অতীতের মতোই অবস্থান নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পরিবর্তন এবং তা ঘিরে ছাত্ররাজনীতির এই উত্তেজনা দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, একাডেমিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।