নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে ‘সবার বাজেট’ আখ্যা দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এ বাজেট কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়; দেশের সব মানুষের প্রয়োজন ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কৃষক, নারী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, তাঁতি, শিল্পী, থিয়েটারকর্মীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণমুখী করার লক্ষ্য নিয়ে এ বাজেট তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ ও নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য সুযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ শুধু প্রশাসনিক অভিযানের মাধ্যমে সম্ভব নয়। ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, নীতিগত সংস্কার এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর পর জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে এবার উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে এবং আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি জানান, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
বাজেট বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজ করতে ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।