একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে আজীবন সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”
প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় তিনি আরও বলেন, “ষাটের দশকের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর মাগফিরাত কামনা করছি।”
আল মুজাহিদী ছিলেন একাধারে কবি, গবেষক ও সম্পাদক। গত শতকের ষাটের দশকের বাংলা কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
পারিবারিক পরিবেশ, নাট্যচর্চা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ষাটের দশকের আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
পেশাজীবনে তিনি তিন দশকেরও বেশি সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে একটি জাতীয় দৈনিকে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর সম্পাদনায় নিয়মিত প্রকাশিত হতো সাহিত্য সাময়িকী ‘নতুন এক মাত্রা’।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০০৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়াও তিনি জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার এবং জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
দেশের সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।