নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে সম্ভাব্য নাশকতা, সহিংসতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রতিরোধে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় মোতায়েন সেনাবাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করেছে সরকার।
সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই ক্ষমতা কোস্টগার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) প্রেষণে কর্মরত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও ভোগ করবেন।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) ১৮৯৮-এর বিভিন্ন ধারার আওতায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। এসব ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে গ্রেপ্তার ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা, তল্লাশি পরিচালনা, বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ, জনস্বার্থে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষুদ্র অপরাধে মুচলেকা গ্রহণ।
এর আগে রোববার সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সরকার মনে করছে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সিআরপিসির ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা জোরদার এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতেই সরকারের এ নতুন সিদ্ধান্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।