• মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন
Headline
সিলেটের মাজার ব্যবস্থাপনায় – ঐতিহ্য রক্ষা নাকি স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা ? আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অপতৎপরতা ঠেকাতে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে নিবন্ধিত গণমাধ্যম ১ হাজার ৯৬৯টি: সংসদে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী নাশকতা প্রতিরোধে ছয় জেলায় সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ফ্যাসিস্ট আমলে রোষানলের শিকার ডিপিডিসি‘র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মজিদ বহুমুখী খাতে সম্পর্ক গভীর করতে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ, প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এয়ারএশিয়া গ্রুপের সিইওর সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করলেন চীনা যুবক পটুয়াখালী সদর উপজেলার সরকারি রাস্তার কাজে ব্যক্তিগত জমির মাটি কাটার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

সিলেটের মাজার ব্যবস্থাপনায় – ঐতিহ্য রক্ষা নাকি স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা ?

জি. এম .ফারুক হোসেন,ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, দৈনিক একুশে সংবাদ / ৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারকে ঘিরে দান ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নেওয়া স্বচ্ছতা ও ব্যবস্থাপনা সংস্কার উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা নানা প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।
স্থানীয় অনেকেই মনে করেন, মাজারে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ দান সংগ্রহ হয়, তা যদি সঠিকভাবে পরিকল্পিত উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হতো, তাহলে পুরো মাজার এলাকা একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারত।
কিন্তু বাস্তব চিত্র নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। দর্শনার্থীদের অনেকেই মনে করেন, বিপুল অর্থ সংগ্রহ হওয়া সত্ত্বেও দৃশ্যমান উন্নয়ন সীমিত। অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন খুব বেশি দেখা যায় না।
জনমতের প্রশ্ন: কোটি কোটি টাকা কোথায় যায়?
স্থানীয় পর্যায়ে এখন একটি বড় প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে—প্রতিদিন যে বিপুল দান আসে, তা আসলে কোথায় ব্যয় হয়? কারা এই অর্থের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ করে?
অনেকেই আরও প্রশ্ন তুলছেন, শত শত বছরের ঐতিহ্যের কথা বলা হলেও যদি সত্যিই দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ সংগ্রহ হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার ও দৃশ্যমান উন্নয়ন কোথায়?
ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা
সম্প্রতি মাজার এলাকার দুটি মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে আমি লক্ষ্য করেছি যে, প্রত্যাশিত উন্নয়নের ছাপ সেখানে তেমনভাবে দৃশ্যমান নয়। সাধারণ অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা এবং আধুনিক সুবিধার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে বলে অনেকে মত প্রকাশ করেন।
এই অভিজ্ঞতা থেকে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে—যদি সত্যিই নিয়মিতভাবে বিপুল দান সংগ্রহ হয়ে থাকে, তবে সেই অর্থের বাস্তব উন্নয়নমূলক ব্যবহার কোথায়?
এই প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, হিসাবনিকাশ ও শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে দানবাক্স ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা ছিল অন্যতম।
তবে এসব উদ্যোগকে ঘিরে দুটি ভিন্ন মত তৈরি হয়। এক পক্ষ এটিকে দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম দূর করার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ আবার ঐতিহ্যগত ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেছে।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহারের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, মাজার ব্যবস্থাপনায় আনা পরিবর্তন, দান ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং প্রচলিত কাঠামোতে সংস্কারমূলক হস্তক্ষেপের কারণেই তার প্রত্যাহার হয়েছে।
তাদের যুক্তি অনুযায়ী, যখন কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন, তখন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা প্রভাবশালী মহলের প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে- যার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্যদিকে সরকারি সূত্র থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি “রুটিন প্রশাসনিক বদলি”। নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ অবস্থায় একটি যুক্তিনির্ভর প্রশ্ন সামনে আসে—যদি এটি সম্পূর্ণ রুটিন বদলি হয়, তাহলে কেন ঘটনাটিকে ঘিরে জনমনে এত আলোচনা ও ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হলো? আবার যদি এটি পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া হয়, তবে সেটি প্রকাশ্যে স্বীকার না করে রুটিন বদলি বলা—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ফলে বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ব্যাখ্যা বনাম জনমতের ধারণার একটি দ্বৈত অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে।
মাজারের শত শত বছরের ঐতিহ্য ও ধারাবাহিক দান ব্যবস্থাপনার ইতিহাস থাকলেও, বাস্তবে দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম -এমন মন্তব্যও জনমনে রয়েছে।
এ কারণে কিছু মহলে প্রশ্ন উঠেছে – যদি দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল দান সংগ্রহ হয়ে থাকে, তবে সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার ও হিসাব কোথায়?
এই প্রশ্নগুলো এখন শুধু বিতর্ক নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবিকে আরও জোরালো করছে।
সিলেটের মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান বিতর্ক মূলত তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে- ঐতিহ্য, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন।
একদিকে রয়েছে ঐতিহ্য ও ধর্মীয় অনুভূতির সংরক্ষণ, অন্যদিকে রয়েছে বিপুল অর্থের সঠিক ব্যবহারের দাবি ও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন এখন একটাই—দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও বিপুল দানের বাস্তব ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য ও স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনগুলোকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে—রুটিন নাকি সংস্কারের প্রতিক্রিয়া? ঐতিহ্য রক্ষা নাকি স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা ?
জি. এম .ফারুক হোসেন,
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক

দৈনিক একুশে সংবাদ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা