• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
Headline
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত ও সালাহউদ্দিন আহমেদের আশু আরোগ্য কামনায় ডেমরা থানা বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ, ২০৫০ সালে বিশ্বের শীর্ষ জনবহুল নগরীর শঙ্কা ৪ হাজার ৫৮৬ ইউনিয়নে নতুন উপকারভোগী বাছাই ডিসেম্বরে দেশজুড়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক কার্যক্রম তারেক রহমানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সৌজন্য সাক্ষাৎ উপকূলের ১৪ জেলায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে নয় দিনের সরকারি সফরে সেনাপ্রধান যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মাদক ও উগ্রবাদ মুক্ত মিরপুর মাজার: উরস সফল করতে চাই সমন্বিত উদ্যোগ -এ আর জাফরী

Reporter Name / ২১৪ Time View
Update : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

মিরপুরের ঐতিহাসিক হযরত শাহআলী বোগদাদী (রহ.) মাজারের শত বছরের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক মিলন মেলাকে কেন্দ্র করে তৌহিদী জনতার ব্যানারে একদল মানুষের আকস্মিক হামলা এবং এর বিপরীতে আশেকান-ভক্তদের ক্ষোভ—মাজার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। আগামী ১৯ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক উরস শরীফের প্রাক্কালে এই ধরনের উত্তেজনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি, এই বিবাদ নিরসনে উভয় পক্ষকেই সংযত হতে হবে এবং প্রশাসনকে অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।

মাজারে আসা এক শ্রেণীর অসাধু চক্রের কারণে ইসলামের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, গাঁজা-মদের আসর বসছে এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটছে—তৌহিদী জনতার এই উদ্বেগকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ধর্মের নামে বা আধ্যাত্মিকতার দোহাই দিয়ে কোনো স্থানে মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলা কখনোই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। মাজার পরিচালনা পর্ষদের ভেতরের কোনো শিথিলতা বা ‘সর্ষের মধ্যে ভূত’ থাকলে তা সবার আগে দূর করতে হবে। কিন্তু সেই সাথে এটিও মনে রাখতে হবে, মাদক বা অনৈতিকতা দমনের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, তান্ডব চালানো বা উগ্রপন্থী আচরণ করা কোনো সুশীল সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, কোনো সাধারণ গোষ্ঠীর নয়।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা নিরপরাধ জিয়ারতকারী ও শান্তিপ্রিয় ভক্তরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা জুলুমের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। মাদক দমনের অজুহাতে যদি উগ্রপন্থী হামলা অব্যাহত থাকে, আর তার বিপরীতে মাজারের আশেকানরা প্রতিহতের ডাক দেয়, তবে আসন্ন উরসের পরিবেশ কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—তা ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়। মিরপুর মাজারের এই অরাজকতা যদি এখনই শক্ত হাতে দমন করা না হয়, তবে এই আগুনের লেলিহান শিখা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক উরস বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। সমাধান লুকিয়ে আছে ভারসাম্যপূর্ণ ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায়। আমাদের স্পষ্ট দাবি—মাজারের বার্ষিক উরসও চলবে, মাদক ও অপরাধ নির্মূল অভিযানও চলবে, আবার কোনো পক্ষের উগ্রবাদী তান্ডবও বরদাশত করা হবে না।

আসন্ন উরস শরীফ নির্বিঘ্ন করতে মাজার পরিচালনা পর্ষদ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিশেষ নিরাপত্তা চৌকির সমন্বয়ে একটি নিরেট নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। মাজার প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে একদিকে যেমন মাদক ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যদিকে তেমনি আগত সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমরা আশা করি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে মিরপুর মাজারের পবিত্রতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
-লেখক :
মহাসচিব :
সুফিবাদ সার্বজনীন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
ধর্ম সচিব :
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন
সম্পাদক ও প্রকাশক :
দৈনিক ফিনিক্স বাংলা।
১৫ মে ২০২৬ ইং।
@highlight


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category